কুড়িগ্রামে শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন!

  

পিএনএস ডেস্ক : কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে মজুরির পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে সাগর মিয়া (১২) নামের এক শিশু। হোটেল মালিক ওই শিশুকে তার দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দফায় দফায় নির্যাতন চালান। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাড়ে চার ঘণ্টার মতো শিশুটিকে হোটেল ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং হোটেল মালিক দুই ভাইকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার রাজীবপুর নামাবাজারের সায়েম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ওই ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিত শিশুটির বাবার নাম শাহ আলম। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের কারখানাপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ছেলের ওপর নির্যাতনের খবর পেয়ে শিশুটির মা মমতা বেগম ছুটে আসেন। মায়ের সামনে ছেলেকে মারপিট করেন হোটেল মালিক সহোদর সায়েম মিয়া ও শফি আলম ওরফে দুখু মিয়া। নির্যাতিত শিশুটি ওই হোটেলে কাজ করত। এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে চলে যাওয়ার পর আর হোটেলের কাজে যোগ না দেওয়ায় হোটেল মালিক ক্ষিপ্ত হন।



নির্যাতিত শিশুটির মা মমতা বেগম বলেন, ‘শরীরে জ্বর থাকার কারণে হোটেলের কাজে আসতে পারেনি সাগর। এখনো সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি। ওষুধ কিনতে টাকা লাগবে এ কারণে ছেলে আমার মজুরির পাওনা সাড়ে ৭০০ টাকা চাইতে হোটেলে আসে।’ ছেলেকে যারা মারপিট ও নির্যাতন করেছে তাদের বিচার দাবি করেন তিনি।

শিশুটির ওপর নির্যাতনকারী অভিযুক্ত হোটেল মালিক সহোদর দুই ভাইকে পুলিশ থানায় ধরে নিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত সায়েম মিয়াকে ছেড়ে দেওয়ায় এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পুলিশ অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের মধ্যে শুধু শফি আলমকে আসামি করে শিশু আইনে মামলা গ্রহণ করে। শফি আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কুড়িগ্রাম আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই হোটেল মালিক দুই ভাই সমান অপরাধী। কেননা হোটেলে শিশুদের ব্যবহার বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগানো দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশুটির ওপর নির্যাতন করে তাঁরা আরেকটি অপরাধ করেছেন। শিশুটির মা মমতা বেগম বলেন, ‘আমি পুলিশের কাছে দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে মামলা নিতে বলেছি। পুলিশ কিভাবে এজাহার লিখেছে তা আমি বলতে পারছি না।’



জানতে চাইলে রাজীবপুর থানার ওসি নবীউল ইসলাম বলেন, ‘হোটেল মালিক দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাই শফি আলম শিশুটিকে বেঁধে নির্যাতন করেছে। এ কারণে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলা হয়েছে শিশু আইন ২০১৩ এর ৭০ ধারায় শিশুর সঙ্গে নির্দয়-নিষ্ঠুর আচরণ করার অপরাধে।’

মূল অভিযুক্ত সায়েম মিয়াকে কেন ছেড়ে দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘সে দোষী নয়।’ হোটেলে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের ব্যবহার বেআইনি। এ ক্ষেত্রে হোটেল মালিক সায়েম মিয়াও আসামি হয়—এ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘তদন্ত করা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।’

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন