টেকনাফ পৌর এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন

  

পিএনএস ডেস্ক : করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা কক্সবাজারের টেকনাফ পৌর এলাকাকে ‘রেড জোন’ এর আওতায় আনা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) রাত ১২টা থেকে টানা ১৪ দিনের জন্য এই রেড জোনে কঠোরভাবে ‘লকডাউন’ চলবে। আগামী ২১ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত ওই এলাকাজুড়ে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম শনিবরা রাতে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে উপজেলায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির জরুরি সভায় সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লকডাউনের মধ্যে সব ধরনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণকে বাসায় থাকতে বলা হয়েছে।

ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার মূলকেন্দ্র ও প্রবেশপথ শীলবুনিয়া পাড়া চকবাজার সংলগ্ন ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ডেইল পাড়া চৌরাস্তার মোড়, ২ ও ৪ নং ওয়ার্ডের ইসলামাবাদ বটগাছতলা মোড় ও হাসপাতাল সংলগ্ন হেচ্চাখাল ব্রিজ এলাকাকে রেড জোনের অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। (৭ জুন) রোববার থেকে ২১ জুন পর্যন্ত এসব এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল, মডেল থানার ওসি তদন্ত এবিএমএস দোহা, মেডিকেল অফিসার প্রণয় রুদ্র, কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা।

এ দিকে রেড জোনের ভেতরে টেকনাফ পৌর এলাকায় লকডাউন চলাকালে কী কী বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে তা জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লকডাউন চলাকােলে সকল ব্যক্তিগত ও গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। এ্যাম্বুলেন্স, রোগী পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তিদের (অনডিউটি) পরিবহন, কোবিড-১৯ মোকাবিলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের গাড়ি এর আওতার বাইরে থাকবে। সকল প্রকার দোকান, মার্কেট, হাট বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কেবলমাত্র রোববার ও বৃহস্পতিবার কাঁচা বাজার ও মোদির দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ ঘটিকা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ওষুধের দোকান এর আওতার বাহিরে থাকবে।

কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৯৮৫ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০৬ জন রোগী কক্সবাজার সদর উপজেলার। এছাড়া মহেশখালীতে ৩৫ জন, টেকনাফে ৪৮ জন, উখিয়ায় ১২৯ জন, রামুতে ৫৬ জন, চকরিয়ায় ১৯০ জন, কুতুবদিয়ায় ৩ জন এবং পেকুয়ায় ৪৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে এ পর্যন্ত ২৯ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন