কুমিল্লায় করোনায় একজনের মৃত্যু

  


পিএনএস ডেস্ক:কুমিল্লার লাকসামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হেদায়েত উল্লাহ (৫৫) নামক এক ব্যবসায়ী মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় তিনি কুমিল্লা ফরটিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উপজেলায় এ প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগের করোনা র্যানপিড রেসপন্স টিম ওই ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, হেদায়েত উল্লাহ পৌর শহরের রাজঘাট এলাকার বাসিন্দা। চট্টগ্রামে তার ডিমের আড়ত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি চট্টগ্রাম থেকে লাকসামের বাসায় আসেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে ডায়াবেটিস, এ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। তবে করোনার কোন উপসর্গ না থাকায় তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসে পরিবারের সদস্যদের সংস্পর্শে যান। ধীরে ধীরে তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ১৪ মে তিনি স্থানীয় স্বাস্থ্যবিভাগকে বিষয়টি অবহিত করলে করোনা র্যা্পিড রেসপন্স টিমের সদস্যরা তার নমুনা সংগ্রহ করেন।

১৫ মে গভীর রাতে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ওই ব্যক্তির করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার বিষয়টি নিশ্চিতের পরপরই প্রশাসন ও র্যাথপিড রেসপন্স টিমের সদস্যরা তার বাড়ি ও আশেপাশের ভবন লকডাউন ঘোষণা করেন। তাকে তাৎক্ষনিক হোম আইসলোশনে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়। ১৬ মে ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের বাকি ৫ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১৮ মে তাদের সকলের রিপোর্ট পজেটিভ আসে।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ছিলেন করোনা আক্রান্ত ব্যবসায়ীর স্ত্রী, তিন কন্যা ও একমাত্র ছেলে। ওই পরিবারের সংস্পর্শে থাকায় মঙ্গলবার ১৯ মে হেদায়েত উল্লাহর জামাতা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এমবিএ পরীক্ষার্থীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ২১ মে তার করোনা রিপোর্টও পজিটিভ আসে।

হেদায়েত উল্লাহসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে রাজঘাটের বাসায় এবং জামাতাকে শহরের ছোয়াছয়আনি মহল্লায় নিজ বাসায় হোম আইসলোশানে রেখে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন স্বাস্থ্যবিভাগের করোনা র্যাএপিড রেসপন্স টিমের সদস্যরা। ২৮ মে সকালে করোনা র্যাটপিড টিমের সদস্যরা তাকে কুমিল্লা ফরটিস হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টায় সতর্কতার সাথে গ্রামের বাড়ি উপজেলার মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের শ্রীয়াং গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল আলী করোনা আক্রান্ত হয়ে হেদায়েত উল্লাহ নামক ব্যবসায়ী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৫০ জন করোনায় আক্রান্ত হলেও আজ প্রথম মৃত্যুবরণের ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৩ জন সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। অন্যদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন