সাতক্ষীরায় মহাবিপদ সংকেত: বাড়ছে ঝড়ের গতি, বাঁধে ফাঁটল

  

পিএনএস ডেস্ক : সাতক্ষীরায় চলছে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত। এরই মধ্যে উপকূলের নন নদীতে প্রবল বেগে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে। জেয়ারের স্রোতের টান আর বাতাসের তোড়ে উচু পানির ঢেউ আছড়ে পড়ায় পড়ায় জনপদ রক্ষার প্রায় ৪০ টি বেড়ি বাঁধ ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। ঝড়ের সাথে প্রবল বর্ষণে বাধের দুর্বল অংশগুলো ভেঙে পড়ছে। এদিকে নদ নদীল পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করায় প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ দিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় ভেড়িবাঁধে ফাঁটল ধরেছে।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীনা সুলতানা জানান, খবর পেয়ে দুপুরে তিনি বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারলে বাঁধ ভেঙে যে কোনো সময় প্লাবিত হতে পারে অসংখ্য মাছের ঘের। প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান ভাঙন এলাকায় বালির বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষার জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়াখালী গ্রামের শমসের ঢালী জানান, খোলপেটুয়া নদীর বেড়ি বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে এলাকায় বাতাসের বেগ ও বৃষ্টির পরিমান বাড়ছে। তার ১২০ বিঘার মৎস্য ঘেরের সামনের গেটের ভাঙন খুব ভয়াবহ। যে কোন মূহুর্তে বাধ ভেঙে নদীর পানিতে ৫ নম্বর কৈখালী ইউনিয়ন প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে বাতাসে প্রবল ঢেউ সৃষ্টি হয়ে উপজেলার গাবুরার নাপিতখালী ৩ নাম্বার পোল্ডারে পানি ওভার করে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। আজ দুপুরে শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী ০৫ নম্বর পোল্ডারে (ভেটখালী সালামের বাড়ির সামনে) বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। একটানা বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানি ওভার করে ভিতরে প্রবেশ করার উপক্রম হয়েছে। এর পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেটের ভয়াবহ অবস্থা। পানির চাপে যে কোন সময় গেটসহ বাঁধটি ধ্বসে পড়তে পারে। সেখানে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এটি রক্ষা ভাঙনে তলিয়ে যেতে পারে ৩-৪ টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে ।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস,ও মোঃ মাসুদ রানা বলেন , আমরা ঘটনা স্থলে বস্তা পাঠিয়েছি সংস্কার করার জন্য। তাছাড়া আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষগন বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

তবে স্থানীয়রা জানান, বিগত বছরে ও বর্ষাকালে জোরাতালি দিয়ে গেডটি সংস্কার করা হয়। যা বছর না শেষ হতে পূর্বের চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা। এক্ষনি ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা করছে তারা।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন