তানোরে দুটি গ্রাম লকডাউন

  

পিএনএস, তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা : করোনা সঙ্কটের মধ্যেও অবাধে চলাচলকারীদের রুখতে তানোর উপজেলার গোকুল ও মথুরা গ্রামের প্রবেশ পথে বাঁশের বেরিকেড দেয়া হয়েছে। নিজেরাই স্বেচ্ছায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া মথুরা গ্রামে কাউসার আলী (৩৫) নামে এক ব্যক্তি ৪০দিন পর তাবলিগ জামাত থেকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে আসেন। তাকে গ্রামবাসীরা বাড়ির একটি আলাদা ঘরে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে। বাড়িটির সামনে সর্তকমূলক একটি লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্রামবাসীর সাথে করোনা সচেনতনায় বিভিন্ন সেবামূলক কাজটি করছে ওই গ্রামের ‘স্বপ্নচারী’ সংগঠনের ২০জন যুবক। এছাড়া ঐ ২০জন যুবক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হলে তারা দাফনে সহযোগিতার করবে। আজ মঙ্গলবার ওই সংগঠন থেকে দু’জন যুবক রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তানোর পৌর এলাকার গোকুল-মথুরা গ্রামের মানুষজন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বেচ্ছায় ওই দু’টি গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করে গ্রামে যাতায়াত বন্ধ করতে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে দিয়েছে। সেখানে একটি নোটিস টাঙিয়ে দিয়েছেন। তাতে লেখা আছে ‘হাত ধুয়ে প্রবেশ করুন। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি ছাড়া বহিরাগতদের গ্রামে প্রবেশ নিষেধ।’ এছাড়া যুবকরা হ্যান্ডওয়াশ, সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার ও জীবাণুনাশক স্প্রে করে গ্রামে প্রবেশ করতে দিচ্ছে।

তবে লকডাউন যাওয়া এলাকায় কারো করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নেই। তবুও করোনা সতর্কতায় স্বেচ্ছায় পুরো গ্রামকে লকডাউন করেছেন তারা। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি ছাড়া বহিরাগতদের এলাকায় অপ্রয়োজনে প্রবেশ না করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ নিয়ে তানোর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান বিষিয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, ওই গ্রামের যুবকরা করোনা সচেতনতায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রামকে করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য তারা নিজেরা গ্রামের প্রবেশদ্বারে বেরিগেট দিয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির বিষয়ে তারা আমাকে অবগত করলে আমি পুলিশ পাঠিয়ে ওই ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজান জানান, আমি নিজেও হাত পরিস্কার করে ওই গ্রামে প্রবেশ করেছি। গ্রামের চাস্টল ও সেলুন দোকানীদের পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য গ্রামে গিয়েছিলাম। করোনা সংক্রামন থেকে দু’টি গ্রাম রক্ষায় তাদের উদ্যোগ আমাকে মুগ্ধ করেছে। এ ধরণের উদ্যোগ অন্য গ্রামের যুবকদের নেয়া উচিত। তাহলে করোনা সংক্রামন থেকে গ্রাম সুরক্ষা পাবে। পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির দাফনের জন্য সরকারিভাবে ওই গ্রামের ২০জন যুবককে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নেয়া হয়েছে। করোনা সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ, জীবাণুনাশক স্প্রে, গ্রামে বাহিরের লোক প্রবেশে বাধা ও এক ব্যক্তিকে বুঝিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখাসহ করোনা সচেতনতায় তাদের এ প্রদক্ষেপগুলো সত্যিই চমৎকার। তাদের পাশে থেকে সব ধরণের সহযোগিতা আমি করবো। অনুরূপভাবে অন্যান্য গ্রামের যুবকদের এমনভাবে প্রদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন