আধা ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেল ১১টি গরু, এলাকায় আতঙ্ক

  

পিএনএস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ১১টি গবাদি পশু মারা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, পুকুরের পানি পান করে ১১টি গবাদি পশু মারা গেছে।

তবে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন, বিষক্রিয়ার কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

রোববার উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের সুতারগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুরের পানি সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সুতারগাঁও গ্রামের পার্শ্ববর্তী মাঠে পড়ে আছে সুতারগাঁও গ্রামের দিগেন্দ্র দাসের ৩টি, দিলিপ দাসের ২টি, শিশির মোহন দাসের ১টি, তিলক মোহন দাসের ১টি, হরিলাল দাসের ১টি, রায় মোহন দাসের ১টি, পিন্টু দাসের ১টি ও চাতলপাড় গ্রামের নজির খানের ১টিসহ ১১টি গরুর দেহ।

গ্রামবাসী জানান, পার্শ্ববর্তী চাতলপাড় গ্রামের আনিস উল্লার পুত্র আবু সালাম সরকারি জায়গার ছোট ছোট ডোবা দখল করে মৎস্য চাষ করে আসছেন। কিছুদিন পূর্বে রাস্তায় মাটি ভরাটের ফলে একটি গর্ত হয়, সেখানে বৃষ্টির পানি জমে পুকুরের মতো হলে তা দখলে নিয়ে তাতে মাছের রেনু ফেলার জন্য শনিবার বিষ প্রয়োগ করেন।


প্রতিদিনের মতো রোববার সকাল ৯টার দিকে গ্রামের পঞ্চায়েতি ৩ জন রাখাল বিভিন্ন মালিকের প্রায় অর্ধশতাধিক গরু নিয়ে ঘাস খাওয়ানোর জন্য মাঠের দিকে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে বিষ প্রয়োগকৃত ডোবার পানি পান করে কয়েকটি গরু। পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই গরুগুলো লাফাতে লাফাতে মাটিতে পরে মারা যায়।

গ্রামের শিশির মোহন দাস বলেন, সরকারি জায়গার সবগুলো ডোবা দখল করে মাছ চাষ করে আসছেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের আবু সালাম। আমাদের গবাদি পশুগুলোকে মাঠে পানি খাওয়ানোর ব্যবস্থা নেই। কিছুদিন পূর্বে সরকারি সড়কে মাটি তোলার ফলে বৃষ্টির পানি জমে পুকুরের মতো হয়। সেটিও দখলে নিতে তিনি বিষ প্রয়োগ করেন।

তিনি বলেন, রোববার সকালে আমাদের গ্রামের পঞ্চায়েতি রাখালরা গরু নিয়ে হাওরে যাওয়ার পথে কয়েকটি গরু সেই পুকুরের পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যে একে একে ১১টি গরু মারা যায়।

চাতলপাড় গ্রামের সুজন খান বলেন, গরু মারা যাওয়ার দৃশ্য দেখে রাখালরা চিল্লাচিল্লি শুরু করলে গ্রামের লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। করোনাভাইরাসে হাওরে একের পর এক গরু মারা যাচ্ছে শুনে সবার মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। গ্রামের মহিলারা বাচ্চাদের ঘরে আটকে রেখে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন।

আবু সালাম বলেন, গ্রামের পঞ্চায়েতের আদেশে রাস্তায় মাটি তোলার জন্য পুকুরটি আমি শুকিয়ে দিয়েছি, তাদের অনুমতি নিয়েই সেখানে মাছের পোনা উৎপাদনের জন্য চুন প্রয়োগ করা হয়েছে। কোনো ধরনের বিষ দেয়া হয়নি।

উপজেলা পানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম বাবরা হ্যামলিন বলেন, গরুগুলো কী কারণে মারা গেছে তা সঠিক করে বলা সম্ভব হচ্ছে না, নমুনা সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য পাঠাব, রিপোর্ট আসার পরই তা বলা যাবে। তবে ধারণা করছি গরুগুলো বিষক্রিয়ার কারণেই মারা গেছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম বলেন, পুকুরের পানি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে বিষ দেয়া হয়েছে কিনা তা জানার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। রিপোর্ট আসলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

দিরাই থানা ওসি কেএম নজরুল জানান, যেহেতু ১১টি গরুর মৃত্যুর ধরন এক রকম, তাই মৃত দুটি গরু ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট আসার পরই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে


পিএনএস/হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন