নারায়ণগঞ্জে ডাক্তারের কাণ্ড : ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ, অন্ত:সত্ত্বা এবং...

  

পিএনএস ডেস্ক : চিকিৎসা নিতে গেলে প্রথমে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। ওই ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে আসছে। এ অভিযোগ ওঠেছে, নারায়ণগঞ্জের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। একদিন, দু’দিন নয় এভাবে তিন বছর ধরে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি। সম্প্রতি গৃহবধূ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় স্বামীও তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। পরে তিনি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত চিকিৎসক নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যার হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার। তিনি জেনারেল কলোরেস্টাল, ল্যাপারোস্কপিক ও প্লাস্টিক সার্জন এবং বার্ন বিশেষজ্ঞ। নির্যাতনের শিকার ওই রোগী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা।

ওই নারী গত ১২ই ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দীনের আদালতে ডা. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয় ওই নারী থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০১৭ সালের ৩১শে জুলাই থাইরয়েডের চিকিৎসার জন্য ডা. আমিনুল ইসলামের খানপুরের চেম্বারে যান। ওই বছরের ২০শে আগস্ট আবার ডাক্তারের কাছে গেলে কিছু টেস্ট করতে হবে বলে বেডে শুতে বলেন। এরপর ইমার্জেন্সি ইনজেকশন নিতে হবে বলে ডা. আমিনুল ইসলাম বাদীকে ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেয়ার পর ওই নারী অচেতন হয়ে যান। পরে ডাক্তার তাকে ধর্ষণ করে।

চেতনা ফেরার পর তিনি চিৎকার করলে ডাক্তার ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেন। এরপর প্রতি সপ্তাহে তার চেম্বারে আসতে বলেন। এই ঘটনার পর ওই নারীকে ফোন দিয়ে ভয় দেখাতে থাকেন চিকিৎসক।

ভিকটিম গৃহবধূ বিবাহিত ও আত্মসম্মানের ভয়ে বিষয়টি স্বামীর কাছে লুকিয়ে রাখেন ঘটনাটি। পরে তার স্বামীর কাছে ডাক্তার পিয়ন দিয়ে খবর পাঠায় যে তার স্ত্রীর কিছু টেস্ট করাতে হবে। ওই নারী তার বোনকে সঙ্গে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান। এরপর ডাক্তার তার বোনকেচেম্বার থেকে বের করে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এভাবে কয়েক দফা ধর্ষণে ওই নারী অন্তসঃত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ ঘটনা নারীর স্বামী বুঝতে পেরে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

বাদীর আইনজীবী শরীফুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তিন বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন ডা. আমিনুল। এ ঘটনায় আদালতে মামলাটি গ্রহণ পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ডা. আমিনুল ইসলামকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন