সরাইলে ককটেল ফাটিয়ে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

  

পিএনএস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় বেপারী পাড়ারচমক বেপারী ছেলে, আবু বক্কর সিদ্দিক (রকেট) নামে সাবেক এক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা তিরিশ মিনিটে দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত আবু বক্কর সিদ্দিক ওই ইউপির বেপারী পাড়ার চমক বেপারীর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী মুজিদ ও কবীর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সরাইল উপজেলা সদর এলাকায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে একদল দুর্বৃত্তরা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ লোকজন বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি করতে থাকেন। তখন প্রাতঃ বাজারে সুভাষ মাইক সার্ভিস একটি দোকানের বিপরীত পার্শ্বে একটি দোকানে বসে ছিলেন সরাইল উপজেলা সদরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক (রকেট)। হেলমেট পরিহিত একদল সন্ত্রাসী মোটর সাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে এসে ককটেল ফাটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে ও রকেট মেম্বারকে এলোপাতারি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক এবিএম মুছা চৌধুরী তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত ১০ জনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।


নিহতের স্ত্রী নাছিমা বেগম ২৫০ শয্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় ঘটনার জন্য সরাইল সদর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য শাহ আলম ও তার লোকজনকে দায়ী করেন।

হামলার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা শাহ আলমকে দায়ী করে তার বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেন। বর্তমানে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যাক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, হামলাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাৎ হোসেন টিটো গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।

উল্লেখ্য, সদর ইউনিয়নের বর্তমান সদস্য শাহ আলম ও সাবেক ইউপি রকেট মেম্বারের পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছিল। গত ঈদের সময় সরাইল প্রাতঃবাজারে শাহ আলম মেম্বারের দুই ভাইকে রকেট মেম্বারের লোকজন পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ নিয়ে একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। এরই জেরে সন্ধ্যায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন