‘ছেলের দেহে করোনাভাইরাস, গুলি করবে পুলিশ’ গুজবে সাতক্ষীরায় মায়ের মৃত্যু

  

পিএনএস ডেস্ক : ‘তোমার ছেলের দেহে করোনাভাইরাস রয়েছে। সে সাতক্ষীরা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসেছে, পুলিশ তাকে খুঁজছে। ধরতে পারলে গুলি করে মারবে’।

মা রেনুকার কাছে এ খবর ছিল ভয়ংকর। আর এতে তিনি নিজেকে সামাল দিতে পারেননি। রাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত মারা যান।

এ খবর জানিয়েছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘কে বা কারা এই গুজব ছড়িয়েছিল রেনুকা বালার মৃত্যুর পর তা আর কেউ স্বীকার করছে না’।

তিনি বলেন, তবে পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন রতন রপ্তানের খোঁজ-খবর নিচ্ছিল।

চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, তার এলাকার পাতাখালি গ্রামের বিমল রপ্তানের ছেলে রতন রপ্তান সম্প্রতি পাসপোর্টে ভারতে যান। সেখান থেকে গত রোববার ফিরে আসেন তিনি। সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসার পর করোনাভাইরাস চেকআপের সময় তার সর্দি-কাশি ও দেহে জ্বর ধরা পড়ে।

নিজেরা দায়িত্ব নিতে না পেরে চেকআপ ইউনিটে কর্মকর্তারা তাকে পাঠিয়ে দেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। সেখানে রক্ত নেয়ার পর একইভাবে জ্বর, সর্দি-কাশি ধরা পড়ে তার। তবে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। তা সত্ত্বেও তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হলে তিনি পালিয়ে যান।

এরই মধ্যে বিষয়টি এক কান দুই কান হতে চারদিকে জানাজানি হয়ে যায়। পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন তাকে খুঁজতে থাকে। পেশায় দিনমজুর রতন রপ্তান (৩৫) বাড়ি পৌঁছার পর বিষয়টি আরও বেশি জানাজানি হয়ে যায়।

এরই মধ্যে কে বা কারা গুজব রটায় যে রতন রপ্তানের দেহে করোনাভাইরাস রয়েছে। পুলিশ তাকে খুঁজছে। এ কথা তার মা রেনুকা বালা রপ্তানের (৫৬) কানে পৌঁছায় এক ভয়ংকর অশনি সংকেত হিসেবে। সোমবার গভীর রাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অজয় সাহা বলেন, রতন রপ্তানকে করোনাভাইরাস সন্দেহে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে তার শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে গুজব রটনায় তার মা মারা গেছেন কিনা তা আমার জানা নেই।

শ্যামনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, এ সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই।

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গুজব রটনার জের হিসেবে রতনের মা মারা গেলেন। আমরা সবাই এ জন্য বেদনার্ত।’

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন