আ'লীগ নেতা শফিকুল-সেন্টুর আগাম জামিন

  

পিএনএস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ : ৪:২৮ অ ডিজিটাল আইন মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এবং জেলা আওয়ামীলীগ উপদেষ্টা আমানুল হক সেন্টু।

সোমবার হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি উবায়দুল হাসান এবং মো: জহিরুল হকের দ্বৈত ব্যাঞ্চ শুনানী শেষে তাদেরকে ৬ সপ্তাহের জামিনের আদেশ দেন। এরপর তাদেরকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে হবে। তাদের পক্ষে আদালতে জামিন শুনানী করেন এডভোকেট আকসির এম চৌধুরী।
তার সঙ্গে ছিলেন এডভোকেট আলী আজম ও আলী আহসান।

জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক আল মামুন সরকার তার বিরুদ্ধে গনমাধ্যমে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়ায় গত২৩শে জানুয়ারী মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আলম এবং যুদ্ধকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার মুজিব বাহিনীর কমান্ডারআমানুল হক সেন্টুকে আসামী করে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী করা হয় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সদর সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে।এজাহারে গত ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে জেলা পরিষদ মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার নামে হীন উদ্দেশ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং বাদী ও ১ নম্বর সাক্ষীর সুনাম ক্ষুন্ন করতে আসামিরা গোপন চক্রান্ত ও শলাপরামর্শ করে অনুষ্ঠান শুরুর আগে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে কিছু ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়। এবিষয়ে তাদেরকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলা হলেও তারা লিগ্যাল নোটিশের জবাব না দিয়ে ৩১শে ডিসেম্বর ‘সাপ্তাহিক গতিপথ’ পত্রিকায় এজাহারকারীর নামে চরম অবমাননা ও মানহানিকর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রদান করেন। গেল বিজয় দিবসে জেলা পরিষদ আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে হামলা হলে এরজন্যে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারকে দায়ী করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন শফিকুল আলম ও আমানুল হক সেন্টু। পরদিনই ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মামুন ওই ঘটনায় তাকে জড়িত করার প্রতিবাদ এবং শফিকুল আলম ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং সেন্টু নামধারী মুক্তিযোদ্ধা বলে মন্তব্য করেন। সেন্টুর দুই ভাই স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন মামুন। এরপর ২৩শে ডিসেম্বর এক মানববন্ধনেও মামুন অনুরূপ বক্তব্য দেন। এরপর ২৬শে ডিসেম্বর আমানুল হক সেন্টু ও শফিকুল আলমকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

১৬ ডিসেম্বরের ঘটনায় তাদেরকে জড়িত করার প্রতিবাদ ছাড়াও এডভোকেট আবদুল জব্বার(মামুন) স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে আমানুল হক সেন্টুকে স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে বলা হয় তার ভাই হামিদুল হক টুক্কু ছিলেন চিহ্নিত ও তালিকাভূক্ত রাজাকার নেতা। যিনি যুদ্ধাপরাধ মামলায় কারাগারে ছিলেন। এরপর ১২ই জানুয়ারি এডভোকেট শওকত আলীর মাধ্যমে ওই লিগ্যাল নোটিশের জবাব দেন আমানুল হক সেন্টু ও শফিকুল আলম। এতে আল মামুন সরকারের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে বলা হয় জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৫৮ সালের ১লা মার্চ। সুতরাং স্বীকৃত মতেই মুক্তিযোদ্ধের সময় আল মামুন সরকারের বয়স ছিলো আনুমানিক ১২ বৎসর।

তাছাড়া তিনি কখন কোথায় কিভাবে মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহন করেছেন তার কোন তথ্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় বা সংশ্লিষ্ট কোন শাখায় নেই। তিনি কোন যুদ্ধে আহত হয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন তারও কোন তথ্য কোন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধার কাছে নেই উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয় কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সকলেই জানেন যে আল মামুন সরকার স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মরহুম হুমায়ুন কবিরের নির্বাচনী প্রচারনায় মোটর সাইকেলের চেইনে লেগে পায়ে ব্যাথা পান। আল মামুন সরকারের শ্বশুর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ওরফে ফরিদ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একজন প্রখ্যাত রাজাকার ছিলেন এবং স্বাধীনতা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর খুনী খন্দকার মোশতাকের বিশ্বস্থ সহচর ছিলেন বলে সেন্টু তার নোটিশের জবাবে উল্লেখ করেন।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech