থানায় যুবককে চোখ বেঁধে নির্যাতন

  

পিএনএস ডেস্ক : নড়াইলের লোহাগড়া থানা হেফাজতে শিহাব মল্লিক (২৮) নামের এক যুবককে চোখ বেঁধে ও পিছনে হাতকড়া পড়িয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার শিহাব মল্লিক লোহাগড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি লোহাগড়া পৌরশহরের গোপীনাথপুর গ্রামের এনামুল মল্লিকের ছেলে।

শিহাব মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, গত শনিবার সকালে পারিবারিক বিরোধে ফুফাতো ভাই মনিরুল ও খাইরুল মল্লিক তার পিতা এনামুল মল্লিকের ওপর চড়াও হয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের বড় ভাই বদরুল মল্লিকের সাঙ্গে শিহাব মল্লিকের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায় শিহাব বদরুল মল্লিককে মারধোর করেন। এ ঘটনায় বদরুল মল্লিকের ছোট ভাই মনিরুল মল্লিক বাদী হয়ে শিহাব ও তার মা বিউটি বেগমকে আসামী করে গত শনিবার দুপুরে লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পায় এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক।

তিনি পরদিন রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিহাব মল্লিককে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে রাখেন। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন থানায় যান। এ সময় পরিবারের লোকজনকে দেখা করতে ও রাতের খাবার দিতে দেয়নি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

শিহাব মল্লিক বলেন, গত রোববার রাত সাড়ে ১১টায় ও সোমবার সকালে এসআই সিদ্দিক তাকে পিছনে হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে নির্যাতন করেছেন। নির্যাতনের কারণে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শিহাবকে কিছুটা সুস্থ্যকরে সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করেন। আদালত চত্ত্বরে তার পরিবারের কাছে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের বর্ণনা দেয় শিহাব।

বৃহস্পতিবার শিহাব জামিনে মুক্ত হলে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তার পরিবার লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করায়।

শিহাবের এক নিকট আত্মীয় জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক বাদীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শিহাবের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে।

অভিযুক্ত এসআই সিদ্দিকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোকাররম হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech