লক্ষ্মীপুরের ২০ কিলোমিটার সড়ক ধুলাবালু নিত্যসঙ্গী

  


পিএনএস, লক্ষ্মীপুর: চার মাস ধরে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর মহাসড়ক সংস্কারের কাজ চলায় খোঁড়াখঁড়ি আর ধুলোবালির যন্ত্রণায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় মানুষের।

লক্ষ্মীপুর থেকে রায়পুরের সীমানা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং তুলে ফেলায় ধুলার আন্তরণে ঢাকা পড়েছে সড়কের আশপাশের ভবন, দোকানপাট ও গাছপালা। বড় গাড়িগুলো চলছে জানালা দরজা বন্ধ করে।

ধুলা কমাতে প্রতিদিন পানি ছিটানোর কথা থাকলেও দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা করছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের সদস্য মামুন জানান, রাস্তার এই অবস্থায় সড়কে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। ধুলার কারণে পথচারী আর যাত্রীদের চলাচল করতে হয় নাক-মুখ চেপে। অনেকের শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশি দেখা দিচ্ছে। সড়কে পানি না দিয়ে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

ধীরগতির সংস্কারকাজের কারণে বাড়ছে এ সড়কে দুর্ঘটনা ও ধুলাবালুর অত্যাচার। বর্ষাজুড়েই ছিল কাদাপানি আর খানাখন্দের দুর্ভোগ। এখন সড়কে বেরোলেই মুখোমুখি হতে হচ্ছে ধুলাবালির দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী। এ সড়কে পথচারী আর যাত্রীদের চলাচল করতে হয় নাক ও মুখ চেপে। দেখে মনে হয় মরুভূমিতে বসবাস করছে মানুষ।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন, ধুলার কারণে শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা, হাঁপানি, চোখের সমস্যা, সর্দি, কাশি, হাঁচিসহ বহু রোগ হতে পারে। গত চার মাস ধরে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের অতিরিক্ত ধুলাবালির কারণেই নানা সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে সড়কের আশপাশের বাসিন্দারা।

রায়পুরের একটি বেসরকারি ব্যাংকের ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রাইভেটকার নিয়ে রায়পুর থেকে লক্ষ্মীপুর যাত্রাপথে কালো রঙের গাড়ি ধুলায় ধূসর রং ধারণ করে। সড়ক প্রশস্তকরণের সময় পানি জন্য বড় অংকের টাকা বরাদ্দ তাকলেও পানি ব্যবহার না করায় ধুলাবালিতে চলাচলকারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তাদের যথাযথ তদারকি না থাকায় নিজের ইচ্ছামতো কাজ করছেন ঠিকাদার। এছাড়াও সড়কের কিছুদূর পর পর এক লেন বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় রায়পুর থেকে লক্ষ্মীপুর পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর থেকে রায়পুরের বর্ডার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার নির্মাণের জন্য ৫৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৩ হাজার ৫৭ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে ধুলা-বালি রোধে পানি দেওয়ার জন্য বড় অংকের টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কাজটি পায় কুমিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্স। পরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজে চুক্তিবদ্ধ হয় হাসান বিল্ডার্স ও মেসার্স সালেহ আহমেদ। তারা গত বছরের ডিসেম্বরে কাজ শুরু করে।

ঠিকাদার আজিজুর কবির বাচ্চু বলেন, পানির লরিতে সংকটে একটু কম দেওয়া হয়েছে। সড়কের দু’পাশে সম্প্রসার করার জন্য মাটি রাখায় ধুলাবালু একটু বেশি হচ্ছে। এছাড়াও এ সময় সব সড়কেই ধুলাবারি একটু বেশি থাকে। সড়কের গাছ কাটাসহ বিভিন্ন কারণে কাজ কিছু ধীরগতি হচ্ছে। তবে প্রকল্প মেয়াদের আগেই কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ।

লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঠিকাদারকে বলা হয়েছে নিয়মিত পানি দেওয়ার জন্য। তবে এই সড়কের কাজে কোন অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কাজটি খুব গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech