প্রথম ট্রায়ালে ব্যর্থ ‘রেমডেসিভির’, ওষুধেই করোনা মুক্তি দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

  

পিএনএস ডেস্ক : করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় রেমসিডিসিভির ওষুধেই মুক্তি দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের গবেষকরা বলছেন যে করোনা চিকিৎসায় রেমডেসিভির ওষুধ তেমন কার্যকরি নয়। এছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে তা করোনা আক্রান্ত শরীরে প্রয়োগের পর প্রথম ট্রায়ালেই ব্যর্থ হওয়ার খবর জানিয়েছিলো।

তবে সফলতা দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের প্রধান ও হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফৌসি বলেন, রেমডেসিভির করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ভালই কাজ করছে। তিনি জানান, আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়ার নানা জায়গায় ১,০৬৩ জন কোভিড পজিটিভ রোগীকে এই ওষুধ প্রয়োগ করে দেখা গেছে যে তারা সেরে উঠছে। রেমডেসিভির ভাইরাস নির্মূল করতে পারে বলেই দাবি করেছেন ফৌসি।

অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভিরের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালাচ্ছে ওই ওষুধের নির্মাতা সংস্থা গিলেড সায়েন্সেস। মানুষের শরীরে এই ওষুধের প্রভাব কী হচ্ছে সেই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ফাঁস হয়ে গেছে বলেই দাবি করেছিল সংবাদ মাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ২৩৭ জন রোগীর ১৫৮ জনকে ওষুধ খাইয়ে দেখা গেছে তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। যদিও এই রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে মুখ খোলেনি গিলেড সায়েন্সেস। তবে রেমডেসিভির ওষুধ নিয়ে প্রখ্যাত ল্যানচেটে জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মহামারি করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহরের দুই শতাধিক কোভিড-১৯ রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে তারা দেখেছেন, রেমডিসিভির প্রয়োগে উল্লেখ করার মতো কোনো সুফল নেই। এর আগে চীনেও এই ওষুধের প্রথম পরীক্ষায় তেমন কোন সুফল মেলেনি বলে দাবি করেছিল চিকিৎসকরা।

ল্যানচেটে প্রকাশিত গবেষণার নেতৃত্বদানকারী চীন-জাপান ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ও চীনের ক্যাপিটাল মেডিকেল ইউনিভার্সিটির চিকিৎসক বিন চাও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ট্রায়ালে দেখা গেছে, নিরাপদ হলেও রেমডেসিভিরের উল্লেখযোগ্য কোনো সুফল নেই। আমরা এমনটা আশা করিনি।’

রেমসিডিসিভির ওষুধের নির্মাতা সংস্থা গিলেড সায়েন্সেস তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে জানিয়েছে, সংক্রমণ যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে খুব দ্রুত কাজ করছে এই ওষুধ। তবে সংক্রমণ গভীরে ছড়িয়ে গেলে সেক্ষেত্রে রেমডেসিভির কেমন কাজ করবে সেটা এখনও গবেষণা করে দেখা হচ্ছে। সংস্থার দাবি, করোনার সংক্রমণ শুরুতে ধরা পড়েছে এমন ৬২% রোগী রেমডেসিভির ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে গেছেন। ৩৯৭ জন রোগীর উপরে এই ওষুধের পরীক্ষা চলছে। পাঁচ দিন ও দশ দিনের বিরতিতে ওষুধ খাইয়ে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ এমার্জেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল রায়ান বলেছেন, রেমডেসিভির নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। এই ওষুধ কতটা কার্যকরী তা এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। আরও অনেক অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধেরই ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে যার মধ্যে রেমডেসিভির একটি। এই ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফল সার্বিকস্তরে খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গিলেড সায়েন্সেস জানিয়েছিল, রেমডেসিভির নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ । আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে এই অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ। তাই ইবোলার উপরেও এই ওষুধ কার্যকরী হবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ইবোলা আক্রান্তদের উপরে এই ড্রাগ তেমনভাবে কাজ করেনি। তবে পরবর্তীকালে সার্স ও মার্স রোগীদের চিকিৎসায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ওষুধ ভালভাবে কাজ করে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন