শেষটা আরও ভালো হতে পারত বাংলাদেশের

  

পিএনএস ডেস্ক : ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৬২ রান এসেছে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে

নিজেদের আগের দুই ম্যাচে পরে ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। রান তাড়ার চাপ ছিল ব্যাটসম্যানদের মাথায়। চট্টগ্রামে অবশ্য টস হেরেও সে চাপ নিতে হয়নি। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে আগে ব্যাট করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ঝোড়ো শুরুতে সুযোগটা দু হাত ভরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লিটন দাস। মাঝে খানিকটা ছন্দপতন হলেও শেষটা মন্দ হয়নি বাংলাদেশের। তবে শেষ পাঁচ ওভারে দ্রুত উইকেট হারানোয় দুই শ-র দেখা পায়নি বাংলাদেশ।

ইনিংসের প্রথম ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৮৩। শেষ ১০ ওভারের পর সংগ্রহটা দাঁড়িয়েছে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান। চতুর্থ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকের ৫৫ বলে ৭৮ রানের জুটিতে ভর করেই মূলত এ সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। ২৬ বলে ৩২ রান করেন মুশফিক। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে ৪১ বলে ৬২ রান। শেষ পাঁচ ওভারে ৩০ বলে মাত্র ৪১ রান তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ। এ সময় ৪টি উইকেটও হারিয়েছে দল। আর শেষ ১০ ওভারে উঠেছে ৯২ রান। শেষ পাঁচ ওভারে উইকেট না দিলে আরও ভালো করতে পারত বাংলাদেশ।

লিটন দাসের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্ত। এর আগে তিন ওয়ানডেতে ২০ রান করা টপ অর্ডার এ ব্যাটসম্যান হতাশ করেছেন আজও। লিটন এক প্রান্তে চার-ছক্কার ‘টর্নেডো’ শুরু করলেও অন্য প্রান্তে টিকতে পারেননি নাজমুল (৯ বলে ১১)। পঞ্চম ওভারে কাইল জার্ভিসকে ফিরতি ক্যাচ দেন তিনি। ওপেনিং জুটিতে তার আগে উঠেছে ৪৯ রান। আগের দুই ম্যাচে ওপেনিং জুটিতে রান না ওঠার হতাশা অন্তত কেটেছে, আর তাতে লিটনের অবদানই সিংহভাগ।

ইনিংসের প্রথম ওভারে দেখেশুনে শুরুর পরের ওভারে দুটি চার মারেন তিনি। স্পিনার এইনস্লে এনডলোভু তৃতীয় ওভারে ফিরলে তাঁর ওপর দিয়ে ঝড়টা চালান লিটন। তাঁর প্রথম তিন বলেই দুই ছক্কা ও এক চারে শুরু করেন লিটন। সব মিলিয়ে তৃতীয় ওভারে এসেছে ২১ রান। কিন্তু নাজমুলের ফেরা দেখে তাঁর যেন আর তর সইল না! ওপেনিং সঙ্গী ফেরার পরের ওভারে এমপফুকে তুলে মারতে যাওয়ার খেসারত গুণে আউট হন লিটন। ২ ছক্কা ও ৪ চারে তাঁর ২২ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে তুষ্টির চেয়ে হতাশা থাকবে বেশি।

দুই ওপেনার ফেরার পর মাঝে একটি ওভার কাটাতে পেরেছেন মাহমুদউল্লাহ-সাকিব জুটি। রান খরায় থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব অষ্টম ওভারে অদ্ভুত এক শটে ক্যাচ দেন লং অফে। ৬৫ রানের মধ্যে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারানোর পর মড়ক লাগতে দেননি মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক জুটি। দেখেশুনে দুই ওভার কাটানোর পর ১১তম ওভার থেকে চড়াও গতে শুরু করেন দুজন। তখন থেকে প্রায় ১৫ ওভার পর্যন্ত ন্যূনতম ৯/১০ করে রান এসেছে।

১৫তম ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৩৪। ওভারপ্রতি প্রায় নয়ের কাছাকাছি রান রেট। মাঝে আরও এক ওভার কাটিয়ে ১৭তম ওভারে এসে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ জুটি। মুতুম্বোজিকে সুইপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুশফিক। ১ ছক্কা ও ৩ চারে ইনিংসটি সাজান তিনি। অন্য প্রান্তে ফিফটি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে রানে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়া মাহমুদউল্লাহ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৪ ইনিংস পর ফিফটির দেখা পেলেন। এ সংস্করণে তিনি সবশেষ ফিফটি পেয়েছিলেন দুই বছর আগে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

শেষ পাঁচ ওভারে যেভাবে চালিয়ে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের তা হয়নি। তা সম্ভবত মুশফিক আউট হয়ে যাওয়ার জন্য। ছয়ে নামা আফিফ হোসেন মাত্র ৭ রান করে আউট হন ১৯তম ওভারে। ওই ওভারেরই দ্বিতীয় বলে এমপফুকে ছক্কা মেরে ফিফটি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে জার্ভিসের ফুল টস বল ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। ৫ ছক্কা ও ১ চারে ইনিংসটি সাজান তিনি। পরের বলে মোসাদ্দেক হোসেনকেও (৩ বলে ২ রান) একইভাবে তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন জার্ভিস। কিন্তু মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন তা হতে দেননি। ছক্কা মেরে ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তিনি।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ৩২ রানে ৩ উইকেট নেন পেসার জার্ভিস। ২ উইকেট আরেক পেসার এমপফুর।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech