এই ১৫ জনকে নিয়েই খেলতে হবে—সাকিব প্রশ্নে তামিম

  

পিএনএস ডেস্ক : ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ খালেদ মাহমুদ বলেছিলেন, ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা নেই। ভাবনা যা বোলিং নিয়ে। কিন্তু সিরিজের দুই ম্যাচ শেষে দেখা গেল, ব্যাটিং-বোলিং দুটি বিভাগ নিয়েই দুশ্চিন্তার যথেষ্ট রসদ আছে, আগেও যেমন ছিল। সাকিব আল হাসান প্রায় একাই দলকে টেনেছেন বিশ্বকাপে। তাহলে সাকিব নেই বলেই কী ব্যাটে-বলে আর শরীরী ভাষাতেও দেখা যাচ্ছে না জয়ের খিদে?

সাদা চোখে তো অবশ্যই। একে তো সিরিজ হার সঙ্গে বাজে পারফরম্যান্স—সিনিয়র ক্রিকেটারের না থাকার অভাবটা এমনিতেই টের পাওয়ার কথা দলের। তবে অধিনায়ক তামিম ইকবাল বিষয়টি দেখছেন ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, ‘প্রথম ম্যাচ থেকে এ পর্যন্ত আমি বলব, দলে যে ১৫ জন আছে তাদের প্রতি আমার আস্থা আছে।’ এরপর অবশ্য তামিম মেনে নিলেন পুরো শক্তি থাকলে ফলটা অন্যরকম হতে পারত, ‘হ্যাঁ, দলের সবাই থাকলে ফলটা হয়তো অন্যরকম হতে পারত।’

দুটি ম্যাচে শুধু হার নয়, হারের ধরন দেখলেও প্রশ্নটা ওঠে—দল কি সাকিবের অভাব টের পাচ্ছে? প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার তিনশোর্ধ্ব রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ৫০ বল হাতে রেখে। তিনে সাকিবের অনুপস্থিতিতে দুই ম্যাচের অনুজ্জ্বল মোহাম্মদ মিঠুন। বিশ্বকাপের আগে থেকে এই তিন নম্বরে নেমেই বাংলাদেশের ইনিংস টেনেছেন সাকিব। এনে দিয়েছেন দারুণ কিছু জয়। দ্বিতীয় ম্যাচে সবচেয়ে বেশি চোখে বিঁধেছে দলের নখদন্তহীন বোলিং। শরীরী ভাষাতেও জয়ের খিদে নেই। যার নেতিবাচক ছাপ পড়েছে দলের ফিল্ডিংয়েও।

শুধু সাকিব নন, ওয়ানডে দলের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতির ছাপও পড়েছে দলের মধ্যে। পোড় খাওয়া,পরীক্ষিত নেতা না থাকলে লড়াইয়ে সাধারণত যা হয়। তবে দলের সেরা যোদ্ধা সাকিবের অনুপস্থিতিই বেশি করে চোখে লেগেছে সবার। যেকোনো জায়গা থেকে ব্যাটে-বলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সাকিবই তো এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আস্থার জায়গা।

দলে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় না থাকলে অভাবটা স্বীকার করে নেন যেকোনো অধিনায়ক। তবে সিরিজের মাঝপথে এ নেই, সে নেই বললে দলীয় সংহতি ও মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অধিনায়কের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তামিম বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘এই মুহূর্তে আমাদের হাতে আরও একটি ম্যাচ আছে। দলে যে ১৫ জন আছে তাদের প্রতি আমি এখনো আস্থাশীল, তাদের পাশেই আছি। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। সেরা খেলোয়াড়দের নিয়েও ভালো খেলতে না পারলেও কিন্তু হারতে হয়। তাই যে ১৫ জন আছে তাদের নিয়েই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, তাদের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।’

ব্যাটিংয়ে তো অবশ্যই বোলিংয়েও সাকিবের অভাব পূরণ করতে পারছেন না বাকি স্পিনাররা। সিরিজে এ পর্যন্ত ১৯ ওভার বল করে ৫৩.৫০ গড়ে মাত্র ২ উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৪ ওভার বল করে উইকেটবঞ্চিত মোসাদ্দেক হোসেন। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে তৃতীয় ম্যাচেও দলের স্পিন শিবিরে নেমে আসতে পারে দুর্যোগের ঘনঘটা। আর ব্যাটিং? সাকিবের শূন্যতা পূরণে মিঠুনের ব্যাট যে এখনো অতটা চওড়া হয়ে ওঠেনি তা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।

কাল কলম্বোয় সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে এরই মধ্যে সিরিজ খুইয়েছে সফরকারী দল।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech