“করোনা নিপাত যাক, মানবতা বেঁচে থাক’’

  

পিএনএস (মোঃ জহির উদ্দিন) : করোনার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাস মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে; জীবন যেন বিখ্যাত সঙ্গীত তারকা জেমস এর গান “পদ্ম পাতার জল”এর মত। পরিসংখ্যান বলছে অতি অল্প সময়েই করোনা ভাইরাস গ্রাস করে ফেলছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চাকচিক্য, দিব্যকম্পমান বিনোদন, কর্মচঞ্চলতা এবং হঠাৎ করে থমকে গেছে প্রকৃতির উপর মানুষের শাসন।

বাংলাদেশে এর আঘাত প্রকট হতে শুরু করেছে, করোনা ভাইরাস পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আক্রান্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাশাপাশি মৃতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে খাদ্য-দ্রব্যের যথেষ্ট মজুত থাকা সত্ত্বেও মুনাফালোভী, মধ্য-স্বত্ব ভোগীদের রাজনীতির কারণে লকডাউন অবস্থায় দেখা দিতে পারে চরম খাদ্য সংকট, যার ফলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে ত্রাণ সহযোগিতা পাওয়ার জন্য এবং করবে গনজমায়েত।

প্রতিনিয়ত সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণ থেকে চুরি/আত্মসাৎ এর সংবাদ এবং প্রশাসনের উদ্ধার কার্যক্রম স্থানীয় প্রতিনিধিদের দীর্ঘদিনের সুনাম প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের দিয়ে করোনার সময় ত্রাণকার্য্য বিতরণ না করার জন্য বলে আসতেছে জনসাধারণ;এর কারণ বিস্তারিত না বললেও এ যেন সর্বজনবিদিত গোপন বিষয়।

স্থানীয় প্রতিনিধিদের বলি আগে যা করেছেন, এখন করোনা মোকাবেলায় আরেকটু মানবিক হোন।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তৈরি পোষাক কারখানা, নিশ্চিত করে বলতে পারি এটা নিয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয় কিন্তু সম্প্রতি তৈরি পোষাক কারখানার মালিকদের অমানবিক আচরণ সত্যিকার অর্থে করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত; পায়ে হেটে, লঞ্চে গাদাগাদি করে, ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে গাদাগাদি করে ফিরতে বাধ্য করাটা অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ।পোষাক কারখানার মালিকদের বলি;তাদের ঘাম এবং শ্রমের বিনিময়ে আজ আপনারা মালিক বটে; শ্রমিকদের প্রতি অমানবিক আচরণ করবেননা এই দুঃসময়ে। করোনা মোকাবেলায় তাদের প্রতি মানবিক হোন এবং সরকারের পাশাপাশি আপনারও তাদের সকল ধরনের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করুন।

অন্যদিকে,বলা হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়াতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে ধর্মীয় অতি-আনুষ্ঠানিকতার। প্রত্যেকটা ধর্মই মানুষের কল্যাণ এবং মানবিকতার উপর জোর দিয়েছেন; সবাইকেই বলি, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে আশেপাশের মানুষদের খোঁজখবর নিন, সাধ্যমতো তাদের সহায়তা করেন।ধর্মীয় চর্চা এবং বিধি-নিষেধ বাড়িতেই পালন করেন; বাস্তবিক অর্থেই প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, এমন কোনো পরিবার পাওয়া খুবই দুষ্কর যাদের আত্মীয়স্বজনদের মাঝে কেউ দরিদ্র, দিনমজুর নেই। এই দুঃসময়ে আপনি আপনার অবস্থান থেকে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য এবং সহযোগীতা করার চেষ্টা করেন।

আপানারা যারা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায়, দরিদ্র, দিনমজুর, সদ্য বেকার মানুষদের এই অবস্থায় সহযোগিতা করছেন নিজের ভালোর জন্য হলেও গনজমায়েত করবেননা; আরেকটু মানবিক হয়ে সাহায্যপ্রার্থীর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানো যায় কিনা ভেবে দেখবেন; যেহেতু গনজমায়েত করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

খেয়াল রাখবেন আপনি কাউকে সাহায্য করতে গিয়ে সম্মানহানি করবেননা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি পোস্ট করার সময় অবশ্যই মুখয়াভব ঢেকে দিবেন, কারণ অধিকাংশই পরিস্থিতির শিকার। মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং তাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছে প্রতিনিয়ত।

প্রিয়জন এবং পরিবার পরিজনকে রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে; নিশ্চয়তা নেই বাড়ি ফিরে যেতে পারবে কিনা এ মহামারী মোকাবেলার যুদ্ধে জয়ী হয়ে। এই যুদ্ধ মোকাবেলার জন্য সবাইকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে মানবতার কালজয়ী নারী মাদার তেরেসার একটি উক্তি যথোপযুক্ত, তিনি বলেন “যদি তুমি একশো মানুষকে সাহায্য করতে সক্ষম না হও, তাহলে অন্তত একজনকে সাহায্য করো”।করোনা নিপাত যাক, মানবতা বেঁচে থাক।

লেখক : মোঃ জহির উদ্দিন, সহ-প্রধান গবেষক
বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম (বিসিসিপি)
Email: uddin.jahir95@gmail.com


পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন