‘‌‌প্যারোলের প্রশ্ন আসবে কেন ’

  

পিএনএস ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, জামিন আমার হক। দেশের আইন অনুযায়ী আমি জামিন লাভের যোগ্য। আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। সুতরাং এখানে প্যারোলের প্রশ্ন কেন আসবে?

বুধবার বিকালে শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়ার বরাত বিএনপির নেত্রী রুমিন ফারহানা এমপি এসব কথা বলেন।

এরআগে বিকেল ৩টার দিকে বিএনপি দলীয় ৪ এমপি কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। তারা চারটার আগে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন।

এসময় সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ম্যাডাম বলেছেন, জামিন আমার হক। দেশের আইন অনুযায়ী আমি জামিন লাভের যোগ্য। আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। সুতরাং এখানে প্যারোলের প্রশ্ন কেন আসবে?

তিনি বলেন, প্যারোলের কোনা কথাই হয়নি। উনি কোনো অপরাধ করেননি। যে টাকার কথা বলা হয়েছে, সে টাকা বেড়ে ৬ কোটি হয়েছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমি দীর্ঘ সময় আদালতে কাজ করছি। এ ধরণের মামলায় একটি আবেদনে বেল হয়ে যায়। সেখানে আজকে ১৮ মাসের ওপরে এরকম শারিরীক অবস্থায় উনি কারাগারে আছেন। ওনাকে পরিকল্পিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। আজকে তার এই শারিরীক অবস্থার জন্য সরকার দায়ী। তাকে কোনো রকমের সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তার অবস্থা যেটা হয়েছে, তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। সেজন্য সম্পূর্ণরূপে সরকার দায়ী। বিএনপি দলীয় আরেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেছেন, আমি সংসদ নেতার কাছে আহবান জানাবো, আপনি একবার এসে দেখা যান- তিন বারের প্রধানমন্ত্রী কি অবস্থায় আছেন। আমি নিশ্চিত যে আপনার ভেতরে মানবিকবোধ জাগ্রত হবে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমলাতান্ত্রিকভাবে না দেখে আপনি জামিনের ব্যবস্থা করেন।

তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) কোনো সাহায্য ছাড়া খেতে পারছেন না, হাঁটতে পারছেন না। এখানে তার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না বলেও মন্তব্য করেন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, আমি আবার বলছি, সংসদের নেতা হিসেবে আপনার কাছে আমার সবিনয় অনুরোধ আপনি ম্যাডামের জামিনের ব্যবস্থা করুন।

জামিনের বিষয়টা আদালতের তো আপনারা মানবিক বিষয় হিসেবে কেন দেখছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কি হবে? আজকে হাইকোর্ট ও সুপ্রীমকোর্ট বিব্রত বোধ করেন। মুক্তির বিষয়ে খালেদা জিয়া কি বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজ বলেন, ম্যাডাম অবশ্যই মুক্তি চান। তিনি অপরাধ করেননি। তবুও বন্দি আছেন। অবশ্যই মুক্তি চান। চিকিৎসার ব্যাপারে তার বক্তব্য তিনি বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা পাচ্ছেন না। সেখানে বিদেশে চিকিৎসার কথা আসছে কেন। তিনি মুক্তির পরে সিদ্ধান্ত নেবেন দেশে না কি বিদেশে চিকিৎসা নেবেন। আগে তো মুক্তি দরকার। তিনি তো সহসা বিদেশে চিকিৎসা নিতে চান না। আর এরআগেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নাম বলা হয়েছে। সেই নিজস্ব ডাক্তারের চিকিৎসা নিতেও দেয়া হয়নি। বিদেশে যদি যাওয়া লাগে যাবেন। সেটা ওনার নিজের সিদ্ধান্ত-পরিবারের সিদ্ধান্ত। সেটা তো আমরা বলতে পারি না।

এসময় মোশাররফ হোসেন এমপি ও জাহিদুর রহমান এমপি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া হাসপাতালের বাইরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ফজলুল রহমান খোকন।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech