শোভন-রব্বানীকে আইনের আওতায় আনার দাবি সোহেলের

  

পিএনএস ডেস্ক: চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন-নবী খান সোহেল।

শোভন-রব্বানী প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘শুধুমাত্র তাদেরকে পদচ্যুত করলেই হবে না। তারা অপরাধী, তাদের বিচার করতে হবে। আজকের এই মানববন্ধন থেকে বলতে চাই, যারা সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ে থেকে ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছেন, ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। তাদের বিচার হবে না, এমনটি হতে পারে না।’

সোহেল বলেন, ‘এদের (শোভন-রব্বানী) তো বয়স বেশি না। এদের তো গডফাদার আছে। বড় ভাই আছে। যারা এদেরকে চাঁদাবাজি শিখিয়েছে। শুধুমাত্র এই দু’জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না, যারা এদেরকে চাঁদাবাজি শিখিয়েছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে সোহেল বলেন, ‘আমি জানি, হয়তো ওবায়দুল কাদের সাহেব কালকেই বলবেন ৮৬ কোটি টাকা কি কোনও টাকা হলো? তিনি বলবেনইবা না কেন, যে দেশে পর্দার দাম ৭০ হাজার টাকা আর বালিশের দাম পড়ে ৭ হাজার টাকা সেই দেশে কাদের সাহেবদের জন্য ৮৬ কোটি টাকা তো কোনও টাকাই না!’

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দুর্ভাগা’ উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এই সভাপতি বলেন, ‘আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্ভাগ্যবান বলছি এই কারণে যে, দেশে এখন নিম্ন আদালতে বিচার পাওয়া যায় না, উচ্চ আদালতে বিচার পাওয়া যায় অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু আমাদের নেত্রী দুর্ভাগ্যবান এই কারণে যে, তিনি নিম্ন আদালতের বিচার তো পেলেনই না, উচ্চ আদালতের বিচার থেকেও বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন।’

সোহেল বলেন, ‘আমাদের নেত্রী ন্যায়বিচার চেয়ে যখন আদালতে আবেদন করেন দুঃখজনক হলেও সত্যি উনাদের (বিচারকদের) প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, উনারা যেন আমাদের নেত্রীকে ন্যায়বিচার দেয়ার মধ্যে নিজেদেরকে তখন এসকে সিনহা সাহেবের পরিণতির কথা ভাবেন। ওনাদেরকে (বিচারকদের) বলবো- বাঘ হতে হবে এমন কোনও কথা নেই। আমরা প্রত্যাশা করি, ন্যায়বিচার প্রদানে আপনারা ‘বাঘের মতো’ হবেন। বাঘ হতে না পারলেও বাঘের লেজ তো হবেন। আমাদের নেত্রী বিচার চান, আর কিছুসংখ্যক বিচারক শুনানি শেষ করে দশ মিনিটের ব্রেক দেন। এটা আবার কীসের ব্রেক? ১০ মিনিটের ব্রেক মানে লাল টেলিফোনের ব্রেক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সাজা হওয়ার পরেও নাজমুল হুদা, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সহ আরও অসংখ্য নেতা জামিনে মুক্ত হয়ে মুক্ত বিহঙ্গের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ কোর্টের ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে আমাদের নেত্রীকে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি জামিন পান না। এর নাম কি ন্যায়বিচার?’

বিচারকদের উদ্দেশ্যে সোহেল বলেন, ‘আমরা কী বলব আপনাদেরকে? ইহকালে যদিও পার পেয়ে যাবেন কিন্তু পরকালে যে আদালত বসবে সেখানে কিন্তু আপনারা বিচারকের চেয়ারে বসবেন না। আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন। আমাদের নিরাপরাধ নেত্রী জামিন পাবেন না, অথচ হুদা সাহেব মায়া সাহেবরা মুক্ত বিহঙ্গের মতো ঘুরে বেড়াবেন এটা আমরা মানতে পারি না।’

হাবিব উন নবী সোহেল বলেন, ‘তাহলে কি বেগম জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন না? আমরা বিশ্বাস করি, অবশ্যই তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। যখন দেশের প্রচলিত আদালতগুলোতে ন্যায় বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায় দেশের সাধারণ মানুষ যখন আদালত থেকে প্রচলিত আইনে বিচার পায় না তখন সবার মুক্তির লক্ষ্যে আর একটি আদালত তৈরি হয়ে যায়। সেই আদালতের নাম জনতার আদালত। সেই আদালতে জানালা নাই খাস কামরা নাই লাল টেলিফোনও নাই। জনতার সেই আদালত ইতোমধ্যে বসেছে। সেই আদালতে বেগম জিয়া নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করুন। অনতিবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দিন। জনতার আদালতে যখন জনগণ তাদের রায় বাস্তবায়ন করতে যাবে, পৃথিবীর এমন কোনও শক্তি নাই তখন আপনার বিচার ঠেকিয়ে রাখতে পারে।’

মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মৎস্যজীবী দলের ভাই এবং বোনেরা নিজেদেরকে সংগঠিত করুন, শক্তিশালী করুন। নিশ্চয় আপনারা বুঝে গেছেন আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না। সেক্ষেত্রে কঠিন থেকে কঠিন আন্দোলনের মাধ্যমে প্রয়োজনে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহাতাবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহীম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech