বাবা-ছেলে পৃথক দলের রাজনীতি করতেই পারে: ফখরুল

  

পিএনএস ডেস্ক:আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের আসন্ন ছাত্রদলের কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে এটা হতেই পারে। বাবা-ছেলে পৃথক দলের রাজনীতি করতেই পারে। বাবা যে দলের রাজনীতি করেন ছেলেকেও সেটাই করতে হবে এমন তো বাধ্যবাধকতা নেই।’

ছাত্রদলের কাউন্সিলে একজন সভাপতি প্রার্থীর পিতা আওয়ামী লীগ নেতা- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে থাকতেই পারে যে বাবা একটা রাজনীতি করবেন, আমি একটা রাজনীতি করবো। আমার ছাত্রজীবনে আমার বাবা একটা রাজনীতি করতেন আমি একটা করতাম। কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। না বাবার হয়েছে, না আমার হয়েছে। এখনতো ছেলে বিপদে পড়ে যাচ্ছে, তার বাবা যদি আওয়ামী লীগ করে থাকে তাহলে তার ছেলে বিএনপি বা ছাত্রদল করলে তার বিপদ হবে। আবার বাবার বিপদ হবে, তার ছেলে ছাত্রদল করলে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে ভিন্নমত পোষণ করা যাবে না।’

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রার্থী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের বাবা কাজী রফিকুল ইসলাম যশোরের কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা। ছেলের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক কিংবা যোগাযোগ নেই দাবি করে গতকাল বুধবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন রফিকুল। এর পরই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার পাঁচ পুত্রের মধ্যে কনিষ্টপুত্র কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৩ সালে ভর্তি হয়। তখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ছাত্রদলের সংগঠনে জড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে বাড়ির সঙ্গে তার যোগাযোগ কমে আসে। বারবার আমি এবং আমার পরিবারের সবাই অনেক চেষ্টা করেও ছাত্রদল ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করাতে ব্যর্থ হয়েছি। এজন্য আমার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করি। সেও আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখে না।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন মানববন্ধন পর্যায়ে থাকবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটাতো এখন বলতে পারবো না, তবে মানববন্ধন হবে, এরপর নিউ কোর্সে সুনির্দিষ্টভাবে আন্দোলন হবে।’

এসময় তিনি বলেন, ‘রবিবার মৎস্যজীবীদল, সোমবার মুক্তিযোদ্ধা দল, মঙ্গলবার তাঁতীদল, বুধবার অ্যাব মানববন্ধন করবে, এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করবে।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তাঁর প্রাপ্য জামিন থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এজন্য তার মুক্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করছি। আজকের যৌথসভায় সেই আন্দোলনের আর একটি ধাপ আমরা ঠিক করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন গতকাল বুধবার আমরা ঢাকায় মানববন্ধন করেছি। আজকে বৃহস্পতিবার সারা দেশে মানববন্ধন চলছে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে গেছেন। প্রতিহিংসাটা এমনই যা অত্যন্ত গভীরে। আজকের শাসকগোষ্ঠী সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আছে। তাদের পক্ষে এই গণতন্ত্রকে ধংস করা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা, মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নেয়া সম্ভব হতো না- যদি আজ খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকতেন। সে কারণেই তাঁকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একই ধরনের মামলায় অন্য যারা সাজা পেয়েছেন তারা জামিনে আছেন। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার বিষয়ে এটাকে সম্পূর্ণ দলীয়করণের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আগেও বলেছি পৃথিবীর ইতিহাসে বোধহয় খুব কম গণতান্ত্রিক দল আছে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এত বেশি সাফার করেছে। ২ মাসে আগের হিসাবে ২৬ লাখ আসামি করা হয়েছে। এক লাখের ওপরে মামলা, ৫০০’র ওপরে নেতাকর্মী গুম ও কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’

দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রধানমন্ত্রী গতকাল সংসদে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না, করলে বিরোধীদের অস্তিত্ব থাকতো না। এ কথাটা বলে উনি কি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, অস্তিত্ব রক্ষা না করার জন্যই তারা কাজ করে যাচ্ছেন?’

মহিলাদল নেত্রী রাজিয়া আলিমকে গতকাল বুধবার গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘গ্রেফতার এখনও চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হক প্রমুখ।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech