বিপুল জনসমর্থিত বিএনপি বর্তমানে পরগাছা, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে

  

পিএনএস (আহমেদ জামিল): ২০১৪ সালে জামায়াতের কাঁধে ভর করে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে ২০১৯ সালে ঐক্যফ্রন্টের কাঁধে ভর করে নির্বাচনে আসলেও সাফল্যের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি । জনসমর্থনে অনেক বড় দল হলেও নেতৃত্ব শূন্যতায় রাজনৈতিক মাঠে গত ১০ বছর যেন পরগাছা হয়ে আছে বিএনপি।

প্রবীণ রাজনৈতিকদের মতে, ২০১৪ সালে নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী মহাজোটের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। ২০১৯ সালের নির্বাচনে একইভাবে গণফোরাম নেতা ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ডা. কামাল হোসেনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে সংলাপে বসলেও গুরুত্ব পায়নি বিএনপি।

সূত্রে জানা যায়, জামায়াতকে ধরে রাখতেই ঐক্যফ্রন্টকে সামনে রেখেছে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখানেই বিএনপির চূড়ান্ত ভরাডুবির মূল কারণ।

২০১৪ সালে নির্বাচনে না গিয়ে জামায়াতের ঘাড়ে বসে আন্দোলনে করতে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বিএনপির। আর ২০১৯ সালে ঐক্যফন্টের মাধ্যমে নির্বাচনে গিয়ে দলটির যারপরনাই অপূরণীয় ক্ষতি হয়।

এছাড়া ২০- দলীয় জোট নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এ পদে বসানো নিয়ে দলের সিনিয়রদের মধ্যে দ্বিমত তৈরি হয়েছিল। তবে এটার কিছুটা প্রমাণ পাওয়া যায় বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর, তার দল এক দিনের জন্যও আন্দোলনে নামতে না পারার মাধ্যমে।

এদিকে নানা মহল থেকে গুঞ্জন উঠেছে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেওয়া নিয়ে মা-ছেলের মাঝে বিস্তর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, শপথের বিষয় খালেদা জিয়াকে কিছুই জানানো হয়নি। তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্তে দলের চার সংসদ সদস্য শপথ নিলেও মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমীমগীর বিবেকের তাড়নায় শপথ নেননি। বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নাকি স্থায়ী কমিটিতে হয়নি; মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক বসেনি। বিষয়টি খালেদা জিয়াকেও জানানো হয়নি কিছুই। উল্টো তাকে প্রার্থী করতে মনোনয়নপত্র পাঠানো হয়।

দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলছে, তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে বিএনপির সাংগঠনিক প্রক্রিয়া যেভাবে চলছে, তা মেনে নিতে পারছেন না নীতিনির্ধারকদের প্রায় সবাই। উপনির্বাচন এবং দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতারা খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে চাইলে, আপসহীন নেত্রী রাজি হননি।

বিষয়টি প্রথমে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক কৌশল মনে করা হলেও পরে সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া নিজেই নাকি কথা বলতে চাননি।এখন শুধু রাজনৈতিক কারণেই মা-ছেলের মাঝে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে।

নির্বাচনের আগে বিএনপির একটি অংশ চেয়েছিল দলের হাল ধরতে তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডাক্তার জোবায়দা রহমান। কিন্তু এতেই নাকি তারেক রহমানের আপত্তি । এছাড়া আগামী সম্মেলনে স্থায়ী কমিটিতে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে রাখার চুড়ান্ত সিন্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছেন। আগামী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা বিষয়টি অনুমোদন করবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও দলে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার মতো নেতা আছেন হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র।

এছাড়া খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মতপার্থক্যে দূরত্ব ছড়িয়েছে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মাঝেও। সিদ্ধান্তের ভিন্নতা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের ‘গুরুত্’ না দেওয়ায় তারেক রহমানের সমালোচনা হচ্ছে প্রকাশ্যে। স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ জ্যেষ্ঠ অধিকাংশ নেতার সঙ্গে তার দূরত্ব বেড়েছে তার।

এ বিষয়ে একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে রাজি হননি । তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের মতবিরোধ হয়ছে। দলের ৪ এমপির শপথগ্রহণে নিয়েও বিরোধ আরো তীব্র হয়।

দলের নেতৃত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে সহযোগিতা করার মানসিকতা ছিল তাদের। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের মতামত নেওয়ায় নেতারাও সন্তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের দূরত্ব বাড়তে থাকে। এর পর বিএনপির পুনর্গঠন, শপথগ্রহণ এবং সর্বশেষ বগুড়া উপনির্বাচনের বিষয়ে তারেক রহমানের সাথে তাদের দূরত্ব আরো বাড়ে।সব মিলিয়ে বিএনপির এখন লেজে গোবলে অবস্থা।অথচ জনসমর্থনের দিক দিকে দলটি অনেক এগিয়ে। যোগ্য নেতৃত্বের অভাব ক্রমেই প্রকট হচ্ছে এ দলটিতে।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech