জরুরি বৈঠকে বসছে ঐক্যফ্রন্ট

  

পিএনএস ডেস্ক : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। শুক্রবার বিকেল চারটায় পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু জানিয়েছেন, ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনে নজিরবিহীন ভরাডুবির ধাক্কা সামাল দিয়ে নব-উদ্যমে পথ চলতে এই বৈঠকে বসছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। এতে নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচিও ঠিক করবেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক শীর্ষ নেতার মতে, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পরপরই মূলত থমকে দাঁড়ায় তাদের জোটের কর্মকাণ্ড। ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে কয়েক দফা সংবাদ সম্মেলন আর মানবন্ধনের মতো দুই-একটি কর্মসূচির মধ্যেই আবদ্ধ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ অবস্থায় দল ও জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

ফ্রন্ট সংশ্লিষ্টরা জানান, এতে আরও এক দফা ধাক্কা খায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পাশাপাশি এই জোট নিয়ে পথ চলা যাবে কিনা, এ নিয়ে বিএনপির মধ্যেও আছে নানা মত। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশ দলীয় জোটের শরিকদেরও আপত্তি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে পথ চলায়। পেশাগত কারণে মাঝখানে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনও দেশের বাইরে ছিলেন। এ অবস্থায় জোটের কর্মকাণ্ড প্রায় মুখথুবড়ে পড়ে। জোটগতভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব আছে কি নেই, এ নিয়েও দেখা দেয় নানা প্রশ্ন।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ১১ মার্চ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে পুনঃনির্বাচনের দাবি আদায়ে জেলা ও বিভাগীয় শহরে সভা-সমাবেশের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু কার্যত তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। কেন হয়নি- এর জবাবও দেননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। দল এবং জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্পিকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে চিঠি দেয়ার কথা জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই চিঠি পৌঁছায়নি স্পিকার এবং সিইসির কার্যালয়ে। মূলত নিজেদের মধ্যে হতাশা, দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণেই থমকে আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পথ চলা বলে জানা গেছে। এ কারণে কর্মসূচি দিয়েও শেষ পর্যন্ত তা পালন না করে পিছু হটেছে তারা। ঘোষণা দিয়েও এখন পর্যন্ত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদের বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে পারেননি জাতীয় এক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। হতাশার কারণে নিজেরা বৈঠকেও বসছেন না।

সূত্র জানায়, এ পরিস্থিতিতে নতুন করে পথ চলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজকের বৈঠকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি আগামী দিনের লক্ষ্যও ঠিক করবেন জোটের নেতারা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং নাগরিক ঐক্য মিলে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন হন এই জোটের শীর্ষ নেতা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বিপরীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র আটটি আসন পায়।

এর মধ্যে বিএনপি ছয়টি এবং গণফোরাম দুটি আসনে জয়ী হয়। নির্বাচনে তাদের এই ভরাডুবির পেছনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ আনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তারা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি পুনঃভোটের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়।

কিন্তু গত আড়াই মাসেরও বেশি সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech