ড. কামাল অসুস্থ, দেখা করেননি দলের নেতাদের সাথেও

  

পিএনএস ডেস্ক : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী তফসিল এক মাস পেছানোর দাবিতেই অনড় থাকবে বলে জানিয়েছেন জোটের অন্যতম শীর্ষনেতা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তবে গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য নিজ নিজ প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করছে।

রাজধানীর মতিঝিলস্থ ড. কামাল হোসেনের ল চেম্বারে আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তবে বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন না। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি বৈঠকে যোগদিতে পারেননি বলে জানানো হয়। বৈঠক শেষে গণফোরাম ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা অসুস্থ নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিতে বাসায় গেলেও তিনি কারো সাথে সাক্ষাৎ করেননি। এ বিষয়ে গণফেরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু জানান, স্যারের হাতে ও পায়ে ব্যথা। সামান্য জ্বরও আছে গায়ে। এরসাথে যোগ হয়েছে ডায়রিয়া।

এদিকে ড. কামাল হোসেনের ল চেম্বারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফেরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ।
বৈঠক শেষে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে একমাস নির্বাচনী সিডিউল পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন মাত্র এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমরা (ঐক্যফ্রন্ট) তফসিল এক মাস পেছানোর দাবিতেই অনড় থাকবো। দাবি মানা না হলে নিজেরা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

এসময় তিনি আরো বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের একদিন পরেই ইংরেজি নববর্ষ। ওই সময় দেশে কোনো কূটনীতিক ও বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন না। সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নির্বাচন বানচাল করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার চাইলে আলোচনা করে পুনঃতফসিল দেওয়া সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনেও যাওয়ার কথা থাকলেও ইসি থেকে সময় না পাওয়ায় তারা যাননি বলেন জানান রব।

কমন প্রতীকে নির্বাচন করতে চায় ঐক্যফ্রন্ট
এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একটা কমন প্রতীকে নির্বাচন করতে চায়। তবে প্রতীক কোনটা হবে সেটা ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বসে ঠিক হবে। তিনি আরো জানান, নাগরিক ঐক্য নির্বাচনে অংশ নিতে এরমধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছে। মনোনয়নপত্র বিক্রি ও সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

গণফেরামের ৪০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি
এদিকে গণফেরামের প্রেসিডিয়াম সূত্র জানায় সোমবার পর্যন্ত ৪০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। একইসঙ্গে রাজধানীর ইডেন গার্ডেনের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা বিষয়টি তদারকি করছেন। মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন ড. কামাল হোসেন।

অপরদিকে জেএসডি প্রেসিডিয়াম সূত্র জানায়, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডিও সোমবার থেকে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে। আজ রাতে নির্বাচনী তফসিল ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে দলীয় অবস্থান চূড়ান্ত করতে বৈঠক করেছে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা।

পিএনএস/জ এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech