বন্দি কমেছে কারাগারে

  

পিএনএস ডেস্ক : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যাতে কারাগারে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য বন্দির চাপ কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই উদ্যোগের পাশাপাশি সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে আদালতেরও। দুই পক্ষের ভূমিকায় বন্দির চাপ কমেছে কারাগারে। করোনাকালীন এই সময়ে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২০ হাজারের মত বন্দি।

যাদের অধিকাংশের মুক্তি মিলেছে আদালতের জামিন আদেশে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত আইজি প্রিজন লে. কর্ণেল আবরার হোসেন বলেন, ‘আমাদের কারাগার গুলোতে ৪১ হাজারের মত বন্দি ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সবসময় সেখানে ৮৫ থেকে ৯০ হাজারের মত অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি থাকে। এই করোনাকালীন সময়ে বন্দির চাপ কমাতে সরকারের নির্দেশে লঘু দণ্ডপ্রাপ্ত তিন হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৫৬৯ ধারায় আরো কিছু বন্দি মুক্তির প্রতীক্ষায় রয়েছে।’

তিনি বলেন, ভার্চুয়াল কোর্টের জামিনে হাজার হাজার আসামি মুক্তি পাওয়ায় তা আমাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফলে বন্দির যে চাপ ছিলো সেটা থেকে অনেকটা কারাগারগুলো মুক্ত হতে পেরেছে। এতে আমরা অনেকটা উপকৃত হয়েছি।

সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ১১ মে থেকে অধস্তন আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ে ১৪৪ টি ভার্চুয়াল কোর্ট চলছে। এসব কোর্টে আইনজীবীরা ই-মেইলের মাধ্যমে জামিনের দরখাস্ত দাখিল করছেন। আটটি বিভাগের জেলা ও দায়রা জজ, চীফ জুডিশিয়াল ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত পনেরো কার্যদিবসে ৪৭ হাজার ৬২৭টি জামিনের আবেদন দাখিল হয়েছে। দাখিলকৃত এসব আবেদন নিষ্পত্তি করে জামিন দেওয়া হয়েছে ২৭ হাজার ৪৮০ আসামিকে। জামিন প্রাপ্তদের অধিকাংশই কারামুক্তি পেয়েছেন।

যারা পাননি তাদের মুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত ভার্চুয়াল কোর্টের মেয়াদ বাড়িয়েছেন। সেই হিসেবে আরো সাত কার্যদিবসে কয়েক হাজার জামিন আবেদনের উপর শুনানি হবে। শুনানিতে অনেক আসামি জামিনে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সরকার নির্বাহী আদেশে তিন হাজার লঘুদন্ড প্রাপ্তদের ইতিমধ্যে মুক্তি দিয়েছে।

পিএনএস/মো. শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন