আজ থেকে চলবে আরো ৯ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন

  

পিএনএস ডেস্ক : করোনার এই দুঃসময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও ট্রেনে ওঠানামার সময় অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি করতে দেখা যাচ্ছে। ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ৩১ মে থেকে ৮ জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু হয়। মঙ্গলবার এই বহরে যুক্ত হয় আরও ৯ জোড়া ট্রেন।

বৃহস্পতিবার যাত্রী আনা-নেয়ার কাজে যুক্ত হবে আরও দুই জোড়া ট্রেন। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ১৯ দফা নির্দেশনা মানাসহ ট্রেনগুলোর ভেতরে-বাইরে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। তবে কিছু যাত্রীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা লক্ষ করা গেলেও অনেক যাত্রীকে স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে সচেতন দেখা গেছে। তবে হুড়োহুড়ির কারণে স্টেশনগুলোয়ও দূরত্ববিধি মানার বালাই ছিল না।

রেলওয়ে মহাপরিচালক মঙ্গলবার বিকালে জানান, ‘এখন পর্যন্ত রেলওয়ে প্রতিটি যাত্রী স্বাস্থ্যবিধি ও রেলওয়ের নির্দেশনা মেনে ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেয়া হচ্ছে, আরও দেয়া হবে।

তিনি যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, আগেভাগে স্টেশনে এসে দূরত্ববিধি মেনে লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনে উঠুন। স্টেশনে প্রবেশের আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজ করুন এবং থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা মাপার সুযোগ দিন। মঙ্গলবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন গিয়ে কিছু যাত্রীকে তাড়াহুড়ো করে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তে স্টেশনে হাজির হয়ে যাত্রীরা দৌড়ঝাঁপ করছিল। সামাজিক দূরত্ববিধির বিষয়ে জানতে চাইলে একজন যাত্রী বলছিলেন, ভাই দেড়ি হয়ে গেছে, ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে। কথা হয় কয়েকজন টিকিট চেকারের সঙ্গে। তারা জানান, ট্রেন ছেড়ে দেয়ার ৫-১০ মিনিট আগেও অনেকে আসছেন। তাড়াহুড়ো করে স্টেশনে ঢুকছেন, দূরত্ববিধি না মেনে ট্রেনে উঠছেন। আবার নামার সময় কার আগে কে নামবেন- এ নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা।

ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শওকত জামিল মোহসী জানান, প্রতিটি ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ট্রেন ছাড়ার অন্তত দেড় ঘণ্টা আগে যাত্রীরা যদি স্টেশনে আসেন, তখন স্বাস্থ্যবিধি-নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি যাত্রীই স্টেশনে প্রবেশ এবং ট্রেনে উঠতে পারেন। তিনি বলেন, গেট, স্টেশন ও ট্রেনে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে স্টাফদের। ঝুঁকি মোকাবেলায় যাত্রীদের দায়িত্ব নিতে হবে। গেটে পর্যাপ্ত হ্যান্ডসেনিটাইজার রাখা আছে, আছে থার্মাল স্ক্যানারও। অপর এক কর্মকর্তা জানান, করোনা ঠেকাতে স্টাফদের জন্য পিপিইসহ আরও উন্নতমানের সামগ্রী দেয়া জরুরি।

ঢাকা বিভাগীয় বাণিজ্যিক দফতরের কর্মকর্তা সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, ৩১ মে থেকে চলা ৮ জোড়া ট্রেন সময় অনুযায়ী চলাচল করছে। ট্রেন পরিচ্ছন্ন রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে সব ক্ষেত্রেই যাত্রীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আজ আরও ৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে।

নতুন ট্রেনগুলোর মধ্যে সকাল সাড়ে ৭টায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাবে তিস্তা এক্সপ্রেস। বেলা পৌনে ১১টায় ছেড়ে যাবে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। উপকূল এক্সপ্রেস ছেড়ে যাবে বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে। ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ছাড়বে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়। এছাড়া সকাল ৭টা ১০ মিনিটে খুলনা ছাড়বে রূপসা এক্সপ্রেস ও সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে একই স্টেশন থেকে ছাড়বে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি। সকাল ৮টায় রাজশাহী স্টেশন থেকে ছাড়বে মধুমতি এক্সপ্রেস এবং রাত ৮টায় চিলহাটি স্টেশন থেকে ছাড়বে নীলসাগর এক্সপ্রেস।

বিকাল সোয়া ৫টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছাড়বে মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেন। বৃহস্পতিবার থেকে চলবে কুড়িগ্রাম ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রেন যাত্রীদের তারা সর্বোচ্চ সম্মান দেখাচ্ছেন। অনুরোধ করছেন স্বাস্থ্যবিধি ও রেলওয়ের নির্দেশনা মেনে চলতে। সামান্য কিছু যাত্রী যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা না মানলেও অধিকাংশ যাত্রীই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমণ করছেন। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনে ভ্রমণ করলে করোনার এ সময়ে রেলপথ হবে যে কোনো যানের চেয়ে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন