মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছেন সেনাবাহিনী

  

পিএনএস ডেস্ক: সেনা বাহিনীর ১০ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের প্রধান সড়কে টহল শুরু করে। সামাজিক দূরত্ব বজায় এবং হোম কোয়ারেন্টিনের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করছেন সেনা সদস্যরা।

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে এবং নির্দিষ্ট কিছু সেবা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়। প্রথম কয়েকদিন নির্দেশনা মানা হলেও গেল কয়েকদিন আবার এর ব্যত্যয় ঘটতে শুরু করে। আর এ কারণেই মাঠে আরও কঠোর হয়েছে সেনাবাহিনী। তারা মানুষকে যেকোনো মূল্যে ঘরে রাখার কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে।

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে হিলডে মোড় হয়ে কলাতলী হোটেল মোটেল জোনে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে সেনা বাহিনী। কক্সবাজার শহরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। তারা পথচারীদের ঘরে ফেরার জন্য অনুরোধ ও নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে রাখার আহ্বান করেন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সেনা বাহিনীর সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কলাতলী এলাকা ও ফিশারিঘাট এলাকায় জনসচেতনতা কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শতাধিক দুস্থ ও খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, আলু, লবণ ও তেলসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় দশম পদাতিক ডিভিশনের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলীমুল আমীন, ২ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলীমুল আমীন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সেনা বাহিনীর ১০ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৪ মার্চ থেকে কক্সবাজার জেলা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের আটটি উপজেলায় রামু সেনানিবাসের সদস্যরা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার লক্ষ্যে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত কয়েকদিন ধরে এই জনপদের অসচ্ছল, খেটে খাওয়া ও দরিদ্র মানুষদের মাঝে রামু সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও দিনমজুর মানুষের জীবনে স্বচ্ছতা আনা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সাধারণ মানুষদের বাসায় অবস্থান নিশ্চিত করা, বিনা প্রয়োজনে বাইরে চলাচলরত ব্যক্তিদের ফুল দিয়ে ঘরে ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ, শহর-গ্রামের বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন এবং করোনা প্রতিরোধে নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম বেগবান করার মধ্য
দিয়ে রামু সেনানিবাসের সদস্যরা ইতিমধ্যে সব শ্রেণীর মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছেন। জনকল্যাণে সেনাবাহিনীর গৃহীত এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী।

পিএনএস/হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন