ইপিআই টিকা কর্মসূচিতেও ঝুঁকি রয়েছে করোনাভাইরাস ছড়ানোর

  

পিএনএস : করোনাভাইরাস সংক্রমন ঠেকাতে প্রত্যেকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে সরকার। সেখানে স্বাস্থ্য অথিদপ্তরের বড় একটা অংশ মাঠ পর্যায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) মাধ্যমে লোক সমাগম করছে।প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হচ্ছে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) মাধ্যমে। সারা দেশে প্রায় ২৫ হাজার স্বাস্থ্যসহকারী টিকাকেন্দ্রে শিশুদেরকে টিকা দিচ্ছে। এতে অনেক লোকের জনসমাগম হওয়ায় মা- শিশু এবং স্বাস্থীসহকারীরাও রয়েছেন করোনাভাইরাস ঝুঁকিতে।

স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ হল টিকাদান কর্মসূচি। এই কর্মসূচি শুরু করার আগে প্রতিবছর আড়াই লাখ শিশু টিকা প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা যেত। বর্তমান এ মৃত্যুর হার অনেক কমে আসলেও আরও বেশি সচেতনতা দিতে পারে আমাদের শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় প্রয়োজনমত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই কর্মসূচি সফলতার সাথে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে মহামারি করোনাভাইসের কারণে এই কর্মসূচি নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে।

বিজ্ঞজনেরা মনে করেন, সংশ্লিষ্টরা এই সময় এদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে চিন্তিত এই মুহুর্তে
এই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) দেয়া আপাদত বন্ধ করা প্রয়োজন। অনথায় মা- শিশু এবং স্বাস্থীসহকারীরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে।

উল্লেখ্য (ইপিআই) এর মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগ সমূহঃ যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি, ইনফ্লুয়েঞ্জা বি, পোলিও, হাম, রুবেলা, পিসিভি ।

প্রতিরোধযোগ্য রোগ সমূহের ভয়াবহতাঃ
১. যক্ষ্মা - শিশু মৃত্যুর কারণ ও ফুসফুস ক্যান্সার এর অন্যতম কারণ।
২. ডিপথেরিয়া - হৃৎপিণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে এবং শিশুর মৃত্যু ও ঘটতে পারে।
৩. হুপিং কাশি - নিউমোনিয়া, চোখে রক্ত জমাট বাঁধা ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করে থাকে।
৪. ধনুষ্টংকার - শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এটি মাতৃমৃত্যুরও অন্যতম কারণ।
৫. হেপাটাইটিস বি - লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার এর কারণ।
৬. ইনফ্লুয়েঞ্জা বি - শ্বাসকষ্ট ও শিশু মৃত্যুর কারণ।
৭. পোলিও - পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুর কারণ।
৮. হাম - নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
৯. রুবেলা - মা আক্রান্ত হলে শিশু বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়।

টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যঃ
- শিশুমৃত্যুর হার ও পঙ্গুত্বের হার কমানো।
- মাতৃমৃত্যুর হার কমানো।


পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন