বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো কি আবু গারিব কারাগারে পরিণত হচ্ছে !

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো আবু গারিব কারাগারের মতো নির্যাতন সেলে পরিণত হচ্ছে!যে কক্ষে আবরারকে অত্যাচার করে খুন করা হয়, সে কক্ষে নাকি সপ্তাহে দুদিন অবাধে নির্যাতন চলত নিয়ম করে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও একইভাবে নবাগত শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হতো বলে সাবেক এক ছাত্র জানায়। সাবেক ওই ছাত্রটি বর্তমানে একটি সরকারি ব্যাংকের ম্যানেজার।ব্যক্তিগতভাবে সে এ প্রতিবেদককে বিষয়টি কয়েক বছর আগে জানিয়েছিল।সে নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে স্বীকার করে। তার মতে, কাউকেই তারা রেহাই দিত না।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, শুধু ছাত্র রাজনীতি কেন, পুরো রাজনীতিকে কব্জা করার লক্ষ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অলিগলির মুখে লোহার গেইট লাগানো হয়েছে।আন্দোলনের নামে বেশি বাড়াবাড়ি করলে গেইটগুলো লাগিয়ে ওষুধ দেওয়া হবে।অর্থাৎ নির্যাতন করা হবে। যার প্রমাণ ইতিমধ্যে বুয়েটে এবং যুবলীগ নেতাদের টর্চার সেলে ইলেকট্রিক শকের যন্ত্রপাতি।

বুয়েটের ২০১১ নম্বর কক্ষে যা ঘটছে, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হচ্ছে এটি ইরাকের আবু গারিব কারাগারে সাদ্দাম হোসেনের নিষ্ঠুর অত্যাচার-নির্যাতনকে হার মানিয়েছে।পার্থক্য হচ্ছে, সেখানে নির্যাতন করা হতো চোর, ডাকা্তসহ জাতীয় দুষ্কৃতকারীদের আর এখানে নির্যাতন করে খুন করা হয় জ্ঞান অন্বেষণে ব্যস্ত নিরীহ শিক্ষার্থীদের।

এসব ন্যক্কারজনক ঘটনা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অহরহ ঘটে, তার সবই নাকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ জানে। জানে সবাই।কিন্তু মেরুদাঁড়া সোজা না হওয়ায়, তারা এসব হজম করে। ক্ষেত্রবিশেষে সহযোগিতা করে। দেয় চাঁদাও। যার প্রমাণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।এভাবে আশকারা পেয়ে পেয়ে তারা এতটাই বেপরোয়া যে, ধর্ষণে চেঞ্চুরি করতে পারে সহজেই।

মানুষের মতো মানুষ হওয়ার জন্য অভিভাবকরা তাদের প্রিয় সন্তানদের বড় আশা নিয়ে রাজধানীতে পাঠায় জ্ঞান অর্জনের জন্যে। তারাই যথন সহপাঠী নামের খুনিদের দ্বারা নির্যাতনে প্রাণ হারায়, তখন দুঃখ-বেদনার শেষ থাকে না কারোই। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং হলে যেসব অনিয়ম ও নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়, এসব ব্যাপারে ন্যায়সঙ্গত বিচার পাওয়া যায়নি। বরং কেউ মুখ খুলেছে প্রমাণ হলে ঘটত নারকীয় ঘটনা।

আবরার হত্যার মধ্য দিয়ে বুযেটসহ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলমান সন্ত্রাসের রাজত্বের একটা খণ্ডচিত্র উঠে এসেছে মাত্র। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, শ্বেতসন্ত্রাস, বেপরোয়া, আচরণ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমের ফলে শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নেই। যার ফলে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় আন্তর্জাতিক র্যা ঙ্কিয়ে হাজারের মধ্যেও নেই।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের ন্যায়সঙ্গত দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের ঝড় বইত। অথচ দীর্ঘ প্রায় এক যুগ সেখানে স্থবিরতা বিরাজ করছে। ফলে এ সুবাধে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মাদকের অনুপ্রবেশসহ খুন-খারাবির মতো ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। মাদকেও গা ভাসায় এখানকার অনেক শিক্ষার্থী। বসে মদের আসর ও বেচাকেনা।

মানুষ গড়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠানগুলোয় এভাবে অন্ধকার গ্রাস করলে দেশ ও জাতির ভষিব্যৎ নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। আর এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আলো ছড়ানো এবং আলোকিত মানুষ সৃষ্টির বদলে ইরাকের আবু গারিব কারাগারের কুশীলব তৈরির কারখানায় পরিণত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।আমরা তো এমনটা চাই না। চাই, লাশের বদলে সেখানে সদা-সর্বদা জ্ঞানের মশাল প্রজ্জ্বলিত হোক।


প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech