ঠকবাজ মালিকদের সম্পদ শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টন করা সময়ের দাবি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বকেয়া বেতনের দাবিতে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে রাজধানী ঢাকার মিরপুর ১ থেকে ১০ নম্বর পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও গলিপথ অবরোধ করে রাখেন পোশাক শ্রমিকরা। মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক অবরোধে বাড়ে পোশাক শ্রমিকদের সংখ্যা। তপ্ত রোদে নাকাল হন অসহায় মিরপুরবাসী। কারখানার মালিকদের গাফিলতিতে এরকম বিড়ম্বনা কারো কাম্য নয়। অথচ গায়ে হাওয়া লাগিয়ে এসি রুমে বসে আরামে থাকেন কথিত মালিকরা।

কদিন আগে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একইভাবে পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রাখে বকেয়া বেতনের দাবিতে। সঙ্গে ছিল ছাঁটাই বন্ধের দাবিও। আশুলিয়ায় কিছুদিন আগে একই দাবিতে আন্দোলন করেন অসহায় শ্রমিকরা। পোশাক শ্রমিকরা কতইবা বেতন পান। তার উপর বকেয়ার জন্য রাস্তায় নামার মতো ক্যালোরি যে তারা পায়, এটা ভাবনার বিষয়। যারা রাস্তায় নেমে অধিকার আদায়ের জন্য সড়ক অবরোধ করছেন, তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানানো সচেতন জনগোষ্ঠীর অবশ্য কর্তব্য।

পোশাক শ্রমিকদের আগমন ঢাকার বাইরে থেকে। তাদের দিন আনতে পান্তা পুরায় অবস্থা। তাদের বাড়তি আয় নেই। বরং তাদের এই সামান্য আয়ের উপর নির্ভর করে নিজের পেট এবং পরিবারের খাবার জোটে। যারা ঢাকায় থাকে ভাড়া বাসায়। বাকিতে সদায় খায় পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানি থেকে। সময়মতো বেতন না পেলে এসব জায়গায় তাদের নানা রকম গঞ্জনা সহ্য করতে হয়।

অতি অল্প পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অর্থাৎ খুবই সস্তা শ্রমে মালিক পক্ষ তাদের দিয়ে কাজ করায়। অথচ সময়মতো তাদের সামান্য পাওনাটুকুও পরিশোধ করে না। মালিক পক্ষ নিম্ন মজুরির মানুষদের সমষ্যাটা বুঝতে চায় না। যদি বুঝত, তাহলে তাদের এভাবে দুর্ভোগে ফেলত না। সময়মতো বেতন না পেলে, শ্রমজীবীদের কত ধরনের সমষ্যায় পড়তে হয়; সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

একটি কারখানা থেকে মালিকপক্ষের কয়েকটি কারখানা হয়, হয় গাড়ি-অট্টালিকা। বিদেশে অর্থের পাহাড় গড়ে। দেশের বাইরে হয় সেকেন্ড হোম। ছেলে-মেয়েদের বিদেশে পড়ায়। চলে জমিদারের মতো। অথচ যাদের দিয়ে তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, তাদের ভালো-মন্দ দেখা তো দূরের কথা, মাস শেষে তাদের ন্যায্য পাওনাটুকু দিতেও তাদের যত অনীহা।

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানুষ, মহানবী বলে গেছেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে পাওনা পরিশোধ করতে। সেই নবীর উম্মত দাবিদাররাই নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের পাওনা পরিশোধে ছলছাতুরির আশ্রয় নেয়। যারা কম টাকায় শ্রমিকদের বেশি পরিশ্রম করায়, তাদের তো শ্রমিকদের প্রতি অধিক যত্নবান হওয়া দরকার। অথচ আমাদের দেশের মালিক পক্ষ শ্রমিকদের কেবলই ঠকিয়ে যাচ্ছে।

শ্রমিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জীবন বাজি রেখে খেয়ে-না খেয়ে, কখনো বা আধা পেট খেয়ে কাজটা শতভাগ আন্তরিকতার সঙ্গে করে। এই শ্রমিকরা মাস শেষে বেতন না পাওয়া খুবই দুঃখজনক। এগুলো দেখার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিজিএমের নেতাদের ভূমিকাও কম নয়। তারা যদি যৌথভাবে বেতনের অনিয়মগুলো মনিটরিং করত, তাহলে অনেক নারী পোশাক শ্রমিকের ইজ্জত বিক্রি করতে হতো না।

ঠিকমতো বেতন না পেলে দিনভর মজুরি দিয়ে রাতে বাসায় ফিরে তারা কী খাবে? তারা খেতে না পারলে মালিকের কাজের ক্ষতি হবে বৈকি। তাই কাজে মনোযোগী হতে, বেতনটা সময়মতো পরিশোধ জরুরি। কেননা, মন-মেজাজ ভালো থাকলে কাজটাও ভালো হয়। আর কর্মী না ঠকালে দুনিয়া-আখেরাত- সবখানেই মালিকপক্ষের মঙ্গল। মঙ্গল-কল্যাণের এ কাজটা বুদ্ধিমানরা বেছে নেন।

যে বা যার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বকেয়ার দাবিতে রাজপথে নামেন, সে মালিকের কি একটুও লজ্জা্ লাগে না? যাদের ঘামে-শ্রমে পা মাটিতে পড়ে না, তাদের ন্যায্য পাওনাটুকু দিতে এত গরিমসি-নয়ছয় কেন? মালিক-ব্যবসায়ী নামের এই ঠকবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করার আইন করা সময়ের দাবি। এ দাবি শ্রমজীবীদের।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech