চামড়া নিয়ে কারসাজি : নাটের গুরুরা চিহ্নিত

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : চামড়া নিয়ে কারসাজির শেষ কোথায়। আর চামড়া ব্যবসায়ীদের খুঁটির জোরইবা কোথায়? তারা এত অসীম শক্তি ও ক্ষমতা কোথায় পেয়েছে যে, আজও সাভারের নির্ধারিত জায়গায় না গিয়ে আগের জায়গায় বসে আছে বহালতবিয়তে! যারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে পুঁজি করে প্রতি ঈদে কোরবানির ঈদে ভালোই কামাচ্ছে। কিন্তু যাদের দিয়ে কামাচ্ছে, তাদের ঠকাতে ওদের বিবেকে কি মোটেই বাঁধে না?

এবার এবং এর আগের কোরবানির ঈদের পর চামড়ার দুর্গতি মিডিয়ার কল্যাণে দেখেছে সচেতন দেশবাসী। রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের চামড়ার এমন অনাদর সচেতন জনগোষ্ঠীকে ভাবায় বৈকি। এভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের এমন করুণ দশা, কারো কাম্য হতে পারে না। সঠিকভাবে খাতটির মূল্যায়ন না হওয়ার কুফল ভোগ করতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।

আমাদের দেশে চামড়ার ন্যায্য মূল না পাওয়ায় পুঁতে ফেলা হয়, ক্ষেত্রবিশেষে পচে যেতে দেখেছি আমরা। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যান হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সিলেটে ১০ টন চামড়া পরিষ্কার করে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।ব্যাপারটা শুনলে মনে হয় দেশে এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ নেই। আসলে কি তাই?এ খাতটির এমন দুঃখজনক পরিণতি দেশপ্রেমিকদের কেবলই হতাশ করে।

জানা গেছে, যে দেশে চামড়ার এমন দুর্গতি, সে দেশে এ খাতের ব্যবসায়ীরা গত বছর সাড়ে ৯ শত কোটি টাকার চামড়া আমদানি করেছে।এমন অপরিণামদর্শী কাজ যারা করছে, ওরা কারা? কারা গরিব-এতিম-মেসকিনদের ভাগ্য নিয়ে অনবরত ছিনিমিনি খেলে আসছে, তাদের কেন জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না, সেটা ভেবে কূল পাচ্ছেন না বিজ্ঞজনরা।

দেশে যখন কোরবানিতে কোটির উপরে পশু জবাই হয়, তখন এটির সংরক্ষণ, বাজারজাত, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা কি এড়িয়ে যেতে পারেন? এ দায় থেকে তারা নিষ্কৃতি পাবেন? না, এর দায় তারা কোনোমতেই এড়াতে পারেন না। একজন দায়িত্বশীল বলেছেন, মাত্র ১০ হাজার চামড়া নাকি নষ্ট হয়েছে!

পাগলের প্রলাপ বকতে গিয়ে ঢাকার ডেঙ্গু সারা দেশে যেভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার কথাটা অনেকটা সেরকম। চটকদার ও হালকা কথা বলে আর যা-ই হোক, দায় এড়ানো যায় না। ১০ হাজার কেন, ১০টি চামড়াই বা নষ্ট হবে কেন? জবাবদিহির অনুকূল পরিবেশ থাকলে এমন অসত্য তথ্য উপস্থাপনের পর ঝাড়ু-পেটা টের পেতেন বৈকি। কিন্তু বিধি বাম। তাই সেরে যাচ্ছেন।

আজ যখন চামড়া কিনতে লম্বঝম্প দেওয়া হচ্ছে, প্রশ্ন উঠছে সেটা কার স্বার্থে? কতিপয় মৌসুমি ব্যবসায়ীর স্বার্থে? যারা সিন্ডিকেট করে চামড়ার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করেছে প্রকৃত হকদারদের? অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, ভবিষ্যতে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এ খাতটি গোল্লায় যেতে পারে।এককালের স্বর্ণসূত্র পাটের মতো এটির অবস্থা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

যে প্রশাসন ও দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা সোয়া কোটির কাছাকাছি চামড়ার সদগতি করতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা তো চিহ্নিত। এর দায় তারা নেবে বলে মনে হয় না। যাদের এ ব্যাপারে করার আছে, তারা কেন এখনো বসে আছেন- সে প্রশ্ন কিন্তু উঠতে শুরু করেছে।পাহাড়সম ব্যর্থদের পদে রাখা মানে কানার হাতে কুড়াল দিয়ে রাখা।

যেখানে চামড়াজাত পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, সেখানে আমাদের চামড়া ডাস্টবিনে যাচ্ছে, মাটির নিচে পোঁতা হচ্ছে! এ লজ্জা কার, এ ক্ষতি কার, এ অবজ্ঞা কার- প্রশ্নগুলো ভাবার মতো দায়িত্বশীল কেউ থাকলে এমনটা হতো না বলে মনে করেন প্রবাণ রাজীতিক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

এক্ষেত্রে যদি প্রণোদনা দিতেই হয়, দিতে হবে এতিমখানাগুলোকে। দেওয়া যেতে পারে তালিকা করে কোরবানিদাতাদের, যারা এ অর্থ গরিব, অসহায়ম মিসকিন ও এতিমখানায় দান করবেন। আর ভবিষ্যতে কোরবানির চাড়মা নিয়ে যেন কেউ নয়ছয় করা সর্বনাশা সুযোগ না পায় বা সাহস না করে- এমন দৃষ্টান্ত দেখতে চায় ক্ষুব্ধ-ফোঁড় খাওয়া কোরবানিদাতাসহ গরিব, অসহায়ম মিসকিন ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।

এ খাতের নাটের গুরুরা তো দৃশ্যমান। যারা সাভারে না গিয়ে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাতে পারে, তাদের গরিব, অসহায়, মিসকিন ও এতিমদের হিসাবে ধরার দরকার আছে কি! কারসাজি আর ফড়িয়াদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করার তাদের কালো ইতিহাস তো সবারই জানা। সবদিক দিয়ে এদের অতি বাড় বেড়েছে। যাদের নিয়ন্ত্রণের অভাবে এ শিল্পে সর্বনাশ নেমে আসছে। সার্বিক বিবেচনায় পর্যক্ষেক মহল মনে করছে, এ খাতের প্রকৃত সুহৃদ নেই। থাকলে কি আর এমনটা হয়?

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech