মহানবীর ঈদ উপহার

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বছর ঘুরে মুসলমানের ঘরে ঘরে আবার এসেছে খুশির ঈদ- ঈদ-উল আযহা। আজ দেশব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় ঈদের খুশির পাশাপাশি পশু কোরবানি দিচ্ছে।নিজের মনের পশুত্বকে বিসর্জন দিয়ে মহান রাব্বুল আলামিনের খুশির জন্য পশু কোরবানি করছে। আর এ পশুর গোশত গরিব আত্মীয়-স্বজন ও দুস্থদের মধ্যে বন্টন করে দিয়ে সবার মিলে ঈদের খুশিকে উদযাপন করছে।এখানেই নিহিত স্বর্গীয় সুখ।

ঈদের খুশি মূলত সামাজিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে। ঈদ-উল ফিতরের সময় মালদারদেরর যাকাত ও ফিতরা দেওয়ার মাধ্যমে সমাজের দারিদ্য দূর করার ইসলামী সংস্কৃতির মাধ্যমে গরিব-দুঃখীরা ঈদের খুশিতে শামিল হওয়ার সুযোগ পায়। একইভাবে কোরবানির ঈদে কোরবানিদাতাদের বিলি-বণ্টন করা গোশত পেয়ে আর খেয়ে ঈদের খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সর্বস্তরের মুসলমানদের মধ্যে। ভ্রাতৃত্ববোধের এ দৃষ্টান্ত কতই না সুন্দর।

কে না জানে, ঈদ অনাবিল আনন্দের। ঈদ খুশির। ঈদের জামাতসহ সব নামাজে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে। ঈদের নামাজের পর ঈমামের খোতবা শেষে মুনাজাতের পর একে অপরে সঙ্গে একরাশ খুশিতে কোলাকুলি করে। কোলাকুলির দৃশ্য কী যে আনন্দের। এক্ষেত্রেও এক নানন্দিক সৌন্দর্য দৃষ্টিগোচর হয়। এটাই ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য।

মহানবী সব সময় ঈদের জামাতে এক পথ দিয়ে যেতেন আর আসতেন অন্য পথ দিয়ে। এভাবেই একদিন রাসূলের (সাঃ) ঈদের নামাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। এসয় দেখলেন মাঠের এককোণে একটি শিশু কাঁদছে। খুশির দিনেও কান্না! অবাক হলেন রাসূল (সাঃ)। ছেলেটির কাছে গিয়ে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করেন।

শিশুটি মহানবীকে জানায়, তার বাবা-মা নেই।ফলে কেউ তাকে আদর করে না, ভালোবাসে না। এতে মহানবীর নিজের শিশুকালের কথা মনে পড়ে যায়। রাহমাতুল্লিল আলামিন পরম আদরে শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যান। হযরত আয়েশাকে (রাঃ) ডেকে বললেন, ঈদের দিনে তোমার জন্য একটি উপহার এনেছি। এই নাও তোমার উপহার। ছেলেটিকে পেয়ে দারুণ খুশি হলেন হযরত আয়েশা (রাঃ)।
আর হযরত আয়েশা (রা.)দেরি না করে শিশুটিকে দ্রুত গোসল করিয়ে জামাকাপড় পরান। তারপর তাকে পেট ভরে খেতে দিলেন। এরপর রাসুল (সা.) শিশুটিকে বললেন, আজ থেকে আমরা তোমার বাবা-মা। তুমি খুশি তো? এ কথা শুনে শিশুটির মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।মহানবীর ঈদের উপহার কতটা মহৎ। আর আমরা।

আমরা যারা মহানবীর উম্মতের দাবিদার, তারা কোন কাজটা মহানবীর জীবন চলার পথকে অনুসরণ করে করছি? বরং এতিম শিশুদের সম্পদ লুটে মরিয়া।মহানবীর জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে চলার মধ্যে যে অনেক বরকত ও নেয়ামত রয়েছে। অথচ দুনিয়া ও আখেরাতের চির সুন্দর ও কল্যাণের পথ ছেড়ে আমরা যা করছি, তা পীড়া দেয় বৈকি। মহানবীর ঈদের আনন্দময় উপহার আমরা ব্যক্তিগত জীবনে কার্যকরে আন্তরিক হতে পারি না।

ঈদ নিয়ে আমাদের দেশে একটা মহল যারপরনাই ছলছাতুরি করছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধোঁকা দিচ্ছে। দেশের আইন মেনে চলা রাসুলের সুন্নাত, সে সুন্নাতকে অবজ্ঞা করে চলেছে। সমাজে ও দেশে ধর্মের নামে করছে চরম নৈরাজ্য। তারা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটি উৎসব ও রোজা নিয়ে চরম তামাশা করছে। সারা দেশ যখন আগামীকাল ঈদের জন্য প্রস্তুত, নরাধমের দল তখন ঈদ উদযাপন করছে! ধর্মের নামে এমন ভণ্ডামী আর কত?

ঈদ ও রোজার সময় দেশের প্রচলিত নিয়ম-নীতিকে প্রকাশ্যে অবজ্ঞা করে যারা সৌদির সঙ্গে কথিত মিল রেখে এসব করছে, তাদের ব্যাপারে রাষ্ট্রে নীবর থাকা মানে, সমাজকে ইচ্ছাকৃত বিশৃঙ্খলার দিকে টেলে দেওয়া। দেশের প্রচলিত আইনকে এবং সমাজের বৃহত্তর অংশের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করের মতো যারা সামাজিক শৃঙ্খলার বিনষ্ট করছে, তাদের সুপথে আনা জরুরি বলে মনে করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ঈদের আনন্দ দেশের সর্বস্তরের সবাই একই দিন কাঁধে কাঁধ রেখে, বুকে বুক মিলিয়ে উদযাপন করবে- সেই সৌন্দর্য বাস্তবায়নে দেশের আলেম সমাজের মধ্যে ঐকমত্য জরুরি। শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুসারী মুসলমানদের মধ্যে এমন বৈষম্য কখনো কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। এ ঈদে আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আমাদের দেশের মুসলমানরা একই দিনে রোজা ও ঈদ পালনের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। সবাইকে ঈদ মোবারক।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech