কালোটাকা সাদা করার প্রস্তাব প্রত্যাহার চান ইনু

  

পিএনএস ডেস্ক : কালোটাকা সাদা করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। প্রস্তাবিত বাজেটে এ সুযোগ রাখার সমালোচনা করে ইনু বলেন, কালোটাকা ব্যবহারের পক্ষে যতই সাফাই থাকুক না কেন, এটা অনৈতিক এবং সংবিধানের চেতনাবিরোধী।

আজ সোমবার ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ইনু এ কথা বলেন। ব্যাংকিং খাত সংস্কারে কমিশন করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

ইনু বলেন, ‘কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগের নামে বৈধ করার সুযোগ দিয়ে গত ১০ বছরে কোনো সুফল আসেনি। অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। ড. কামাল হোসেন ও বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া এই সুযোগ কেউ নেননি। আর কারা কারা নিয়েছেন, তা জানিও না। অন্য কারা এই সুযোগ নিয়েছেন, অর্থমন্ত্রী যেন এই সংসদে তার তালিকাটা প্রকাশ করেন।’
হাসানুল হক ইনু বলেন, কালোটাকার কোনো ভূমিকা ছাড়াই ৮ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। কালো থেকে সাদা হওয়া টাকা এত বড় সাদা অর্থনীতির গায়ে কলঙ্ক লেপন করবে। তিনি চান না, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাদা অর্থনীতির গায়ে কলঙ্ক লেপন হোক।

ব্যাংক কমিশন গঠন করার দাবি জানিয়ে ইনু বলেন, ব্যাংক খাত সংস্কার করে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা দরকার। ব্যাংক আইন সংশোধন, ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বড় ঋণখেলাপিরা আদালতের সুবিধা নিয়ে টাকা আটকে রাখছে। ৩৭ হাজার কোটি টাকা এভাবে আটকে গেছে। এটা উদ্ধার করা দরকার।

ইনু বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনতা দিতে হবে। আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনতা প্রয়োগ করুক। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এখানে মাথা না ঘামানো ভালো। এই মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতে যে বিষফোড়া তা সার্জারি করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আছে। তাকে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করার অধিকার দেওয়া উচিত। যতক্ষণ ব্যাংক কমিশন না হচ্ছে, তত দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হোক।

ইনু বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কী প্রভাব পড়বে তা পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে। প্রভাব কী পড়তে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে । প্রয়োগের সময় নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তা সংশোধন করতে হবে।
ইনু বলেন, বাজেটে অনেক ইতিবাচক দিক আছে। এর বিপরীতে বাজেটে কিছু নেতিবাচক দিক ও দুর্বলতা রয়েছে। মোবাইল সিমে নতুন শুল্কারোপ, টকটাইমেরও পর বাড়তি কর চাপানো ও স্মার্ট ফোনে উচ্চহারে শুল্কারোপ ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে মোবাইল খাত যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ থেকে ১০ শতাংশ করা নেতিবাচক হবে।

ইনু বলেন, ‘ব্যক্তির আয়করমুক্ত সীমা আগের মতো আড়াই লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এটা দীর্ঘদিন ধরেই আছে। সম্পদের সারচার্জ সুবিধা সোয়া দুই কোটি টাকা থেকে তিন কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধনীদের সুবিধা দিচ্ছেন আর গরিবদের সুবিধা দেবেন না, এটা হয় না। ব্যক্তি আয়করমুক্ত সীমা তিন লাখে নিয়ে যাওয়া এবং সম্পদের সারচার্জ সুবিধা সোয়া দুই কোটি টাকা বহাল রাখা উচিত।’

ইনু আরও বলেন, করপোরেট কর অপরিবর্তিত রাখাটাও সঠিক নয়। অনলাইনে কেনাকাটা ও রাইড শেয়ারিংয়ে নতুন করারোপ দুঃখজনক। তিনি এগুলো সংশোধনের প্রস্তাব করেন।

বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রশংসা করে ইনু বলেন, দেশের অর্থনীতিকে কোথা থেকে কোথায় টেনে তুলেছেন সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech