প্রতিশ্রুতির পক্ষকাল না পেরোতেই সীমান্তে বাংলাদেশীকে হত্যা

  


পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পিলখানা সদর দপ্তরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় আনার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং অতীতে হত্যাকাণ্ডে ঘটনা তদন্তে উভয় পক্ষ ঐক্যমতে পৌঁছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, সেসব কথা যে কথার কথা ছিল, সে সত্য সামনে চলে আসছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিংনগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মানারুল ইসলাম (৩০) নামে এক বাংলাদেশি রাখাল নিহত হয়েছেন। নিহত মানারুল ইসলাম মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর এলাকার নুহ মন্নার ছেলে। ২০ জুন বৃহস্পতিবার ভোরে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত মানারুল ইসলামের পরিবারের বুখফাটা কান্নায় বাতাস ভারী হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মানারুলসহ আরো ১০ থেকে ১২ রাখাল শিংনগর সীমান্তের হারুনের বাগান দিয়ে ভারতে গরু আনতে যাচ্ছিলেন। এ সময় ভারতের দৌলতপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মানারুল ইসলাম মারা যান। তার সহযোগীরা লাশটি নিয়ে আসে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সাজ্জাদ সরোয়ারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার মো. মশিউর রহমান জানান, সীমান্তে নিহতের মানারুল ইসলাম লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ মর্গে পাঠানো হবে।

কদিন আগে মাত্র বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে তিনদিনব্যাপী বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সর্বসম্মতভাবে, পক্ষকাল অতিক্রম না হতেই সে সিদ্ধান্তপরিপন্থী কাজ অর্থাৎ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এটা খুবই দুঃখজনক। সরাসরি বুকে গুলি করে হত্যা, মানতে কষ্ট হয় বৈকি। কথা-কাজে মিল না থাকায় কষ্ট আরো বাড়ছে।

কয়েক মাস আগে সাতক্ষীরা সীমান্তের কাছে বাংলাদেশি এক যুবকের মুখ ও পায়ুপথে পেট্রল ঢেলে বিএসএফ সদস্যদের হত্যার চেষ্টার মতো ঘটনাসহ কিশোরী ফেলানীকে হত্যার পর কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা বিশ্ববিবেককে নাড়া দেয়। আজও এর সুষ্ঠু বিচার পায়নি ফেলানীর পরিবার। এত কিছুর পরও সীমান্তে বন্ধ হয়নি বাংলাদেশী হত্যাকাণ্ডের মতো নিষ্ঠুর ও অমানবিক ঘটনা।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ে দিয়েছে ভারত, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হাতে একতরফাভাবে বাংলাদেশী হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। অবাধে হত্যা ও নির্যাতনের অমানবিক ঘটনা দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীদের হৃদয়ে কুঠারাঘাত করলেও এক্ষেত্রে প্রতিবেশীদের আচরণের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি। এক্ষেত্রে রক্ষা করা হচ্ছে না প্রতিশ্রুতি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech