যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির ধাক্কা বাংলাদেশি নিহত

  

পিএনএস ডেস্ক: বাইরে কী ঘটছে কিংবা ঘটেনি, তা নিয়ে ভাবার সময় নেই বীণা চৌধুরীর। যুক্তরাষ্ট্রের পার্ক রিজে তার বাসা থেকে ব্যাগভর্তি বাঙালি খাবার নিয়ে তাকে নার্সিং সেন্টারে যেতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে তার অসুস্থ মা ওই নার্সিং হোমে থাকছেন।

বীণা চৌধুরীর ভাগ্নে সাকিব আহমেদ বলেন, যদি ১০ ইঞ্চি বরফ জমেও যায়, তবে সেটি তার কাছে কোনো ব্যাপার ছিল না। টর্নেডোতে সবকিছু দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গেলেও তাকে তার মায়ের জন্য খাবার নিয়ে যেতে হতো। কারণ ওই নার্সিং হোমের আর কারো হাতের খাবার তার মা খেতেন না। বীণা চৌধুরী এলেই কেবল তার মা খেতেন।

প্রতিদিনের মতো বুধবারও বীণা চৌধুরী তার মায়ের জন্য রাতের খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। ব্যালার্ড রেসপাইরেটরি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে মাকে খাইয়ে ফেরার পথে রাস্তা পার হচ্ছিলেন, তখন একটি গাড়ি এসে তাকে ধাক্কা দেয় এবং তিনি আহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

পার্ক রিজ পুলিশের প্রধান সহকারী ডুয়ানো মিলামা বলেন, বীণা চৌধুরী যে স্থান দিয়ে হাঁটছিলেন তা পথচারীদের জন্য নয়। মারাত্মক আহত বীণাকে পুলিশ উদ্ধার করে অ্যাডভোকেট লুথারেন জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।

শিকাগোতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মুনির চৌধুরী বলেন, ব্যালার্ড রেসপাইরেটরি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার নামে একটি নার্সিং প্রতিষ্ঠানে ৫ বছর ধরে বীণার মা চিকিৎসারত আছেন। সেখানে মাকে রাতের খাবার খাইয়ে বাসায় ফেরার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বীণা প্রতিদিনই বাসায় রান্না করা বাঙালি খাবার মায়ের জন্য নিয়ে যেতেন।

স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর বীণা চৌধুরী সাত বছর ধরে শিকাগোতে তার বড় বোনের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। এক বছর বয়সে একমাত্র ছেলে মারা যাওয়ার পর তিনি তার অসুস্থ মায়ের সেবায় দিন কাটাচ্ছিলেন।

৪২ বছর বয়সী বীণা চৌধুরীর বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে। -খবর শিকাগো ট্রিবিউন।

পিএনএস/মো. শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech