`রায়ের কারণে বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে না'

  

পিএনএস ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, একজন বিচারক যে রায়ই দিক, এর জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে না।

মংলা কাস্টম হাউজের সাবেক কমিশনার ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বাতিলের আবেদন শুনানিকালে হাইকোর্ট এমন মন্তব্য করেন।

এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বাতিলের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোনা নাহারিন ও একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ওমর ফারুক।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন জানান, মংলা কাস্টম হাউজের সাবেক কমিশনার ও বর্তমানে সচিবালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম এবং মেসার্স পোর্টল্যান্ড সার্ভিসের মালিক এম এ তোহাকে আসামি করে ২০০৭ সালের ২৯ জুন খুলনার খালিশপুর থানায় মামলা করা হয়।

মংলা কাস্টম হাউজে বন্ড লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে মেসার্স পোর্টল্যান্ড সার্ভিসেস কর্তৃক বিভিন্ন অনিয়ম করে এক কোটি ৭৯ লাখ ৯৪ হাজার ৩৬০ টাকা শুল্ক ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আনেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আবুল হোসেন।

উক্ত বন্ড হাউজের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে শুল্কফাঁকি দেয়ার অভিযোগ ওঠায় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটি অনিয়মের কথা বললেও সাবেক কমিশনার মো. নুরুল ইসলাম এক ন্যায়নির্ণায়ক আদেশে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি- মর্মে মেসার্স পোর্টল্যান্ড সার্ভিসেসকে শুল্কফাঁকির অভিযোগ থেকে মুক্তি দেন।

পরে কাস্টম এক্সারসাইজ ও ভ্যাট ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাবেক কমিশনারের জারিকৃত ন্যায়নির্ণায়ক আদেশ রদ ও রহিত করে রিমান্ডের মাধ্যমে মামলাটি পুনঃন্যায়নির্ণায়নের জন্য পাঠালে শুল্কফাঁকির অভিযোগ নির্ধারিত হয়। এরপর মামলা বাতিলের জন্য হাইকোর্টে আসেন তারা।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech