‘লাব্বাইক’ ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত

  

পিএনএস ডেস্ক : ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুলক্?, লা শারিকা লাকা’ (আমি হাজির! হে আল্লাহ আমি হাজির! তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)।

আজ ৮ জিলহজ শনিবার ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম পবিত্র হজ। লাখো মুসলমানের (হাজী) কণ্ঠের এ ধ্বনিতে মুখরিত হচ্ছে আরাফাতের ময়দান। মধুধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে পবিত্র আরাফাতের পাহাড় ঘেরা ময়দান ছাপিয়ে আকাশ-বাতাস মুখর ও প্রকম্পিত এখন।

ভাষা ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে বিশ্বের প্রায় ২শ দেশের ২৫-৩০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনের লক্ষ্যে মিনা থেকে আরাফাতে যাবেন। মূলত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজ।

মিনা ঘিরে এখন যতদূর চোখ যায় শুধু তাঁবু আর তাঁবু। মিনাকে এখন বলা যায় তাঁবুর শহর। হাজিরা সেখানে নিজ নিজ তাঁবু তৈরি করে দিনরাত ইবাদত বন্দেগি করবেন। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে সকল ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। আলল্গাহর নৈকট্য লাভের আশায় তারা জিকির করবেন, নামাজ পড়বেন জামায়াতের সঙ্গে।

শুক্রবার মিনায় রাত্রি যাপনের পর শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকেই আরাফাত ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন মুসল্লিরা। মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার হেঁটে এখানে যেতে হয়। হাজিরা নামিরা মসজিদ থেকে দেওয়া খুতবা শোনার পর জোহর ও আসরের নামাজ একইসঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করবেন। তারপর হজ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া ও কোরান তেলওয়াতের মাধ্যমে সূর্যাস্তের অপেক্ষা করবেন। সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই আরাফাতের ময়দান থেকে রওনা দেবেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন হাজিরা। তারপর মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

রবিবার (১১ আগস্ট) সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়। জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরা। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যারা আগে মদিনায় যাননি তারা মদিনায় যাবেন। সেখানে হাজিরা সাধারণত ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। পরে শুরু হবে হাজিদের দেশে ফেরার পালা।

হজ অবস্থাপন্ন শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ মুসলমানদের জন্য অবশ্য পালনীয় ইবাদত। জীবনে অন্তত একবার হজ পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে। কাবা কেন্দ্রিক মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ভাবা হয় এই ইবাদতকে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech