সু-প্রভাতের বিকল্প হিসেবে বিআরটিসির বাস দ্রুত চালু করা জরুরি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : সড়কে মৃত্যুর মিছিল শিক্ষার্থীদের আবারও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।সু-প্রভাত পরিবহনের বাসচাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর প্রগতি সরণিতে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা। এর ফলে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সহপাঠীর অকাল মৃত্যু তাদের যারপরনাই ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।

আজ সকাল থেকেই যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে সাড়ে ৯টার দিকে তারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিইউপির শিক্ষার্থী এহাসানুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ (বুধবার) আবারও সড়কে অবস্থান নিয়েছে। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের পাশেই অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে প্রগতি সরণির নর্দ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় সু-প্রভাত (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হয়। পরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা ৮ দফা দাবি ঘোষণা করেন এবং বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন, যা আজ আবার শুরু হয়েছে। একইভাবে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যান এবং আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলেন। আশ্বাস দেন সুষ্ঠু সমাধানের। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার আশ্বাসে আশ্বস্ত না হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মেয়র ঘটনাস্থলে আজ একটি ফ্লাইওভার তৈরির কাজ উদ্বোধন করেন। দুই মাসের মধ্যে এটি তৈরি হবে বলে তিনি জানান। এদিকে নিহতের আবরার আহম্মেদ চৌধুরী আজ থাোয় একটি মামলা করেছেন। উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে সু-প্রভাত পরিবহনকে কেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে মর্মে রুল জারি করেছেন।

জানা গেছে, যে বাসটির চাপায় আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হন, সেটির চালকের লাইসেন্স ছিল না! ফলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আগের মতো আবার গাড়ির লাইসেন্স দেখা শুরু করে দিয়েছেন। তাদের তৎপরতায় রাজধানী ঢাকায় যান চলাচল কমে গেছে। ফলে আগের মতো যানজট আজ চোখে পড়েনি। অন্য দিনের তুলনায় রাস্তা অনেকটা ফাঁকা।


ঢাকা সিটি মেয়র উত্তর গতকাল এবং আজ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান ঘোষণা দিয়েছেন, সু-প্রভাত পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। ঢাকার রাস্তায় এখন সুপ্রভাত চলছে না। সদরঘাট থেকে গাজীপুর পর্যন্ত এ পরিবহনটির অসংখ্য বাস চলাচল করে। বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সদরঘাটে লঞ্চ থেকে নেমে গাজীপুরগামী হাজার হাজার যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। ফলে গন্তব্যে যেতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে তাদের।

এ মর্মান্তিক ঘটনা তখন ঘটেছে, যখন ঢাকায় ট্রাফিক সপ্তাহ চলছে! এতকিছুর পরও সড়কে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা যে ফিরে আসেনি এবং মালিকপক্ষ যে সহযোগিতা করছে না, লাইসেন্সবিহীন চালকের হাতে গাড়ি তুলে দিয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ করা এর অন্যতম উদাহরণ। ফলস্বরূপ এ পরিবহনটির সব গাড়ি বন্ধ করে দেওয়াটা যেমন দরকার ছিল, তেমনি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছিল প্রাজ্ঞতার পরিচয়। এখনো সময় পেরিয়ে যায়নি, বিকল্প হিসেবে দ্রুত বিআরটিসির বাস এ রুটে এই মুহূর্তে চালু করা জরুরি।

অভিজ্ঞ মহল মনে করে, চালকদের মধ্যে যে পর্যন্ত ভতি সৃষ্টিকারী আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা না যাবে ততক্ষণ সড়ক দুর্ঘটনা কমবে না। মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে বলে তাদের অভিমত। একই অভিমত অপরাধ বিশেষজ্ঞদের। পাশাপশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মালিক-শ্রমিক-যাত্রীদের আরো বেশি সতর্ক ও সাবধান হতে হবে। লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি তুলে দেওয়া চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech