রোজা ও ঈদ নিয়ে রাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : রোজা ও ঈদ নিয়ে মহলবিশেষ দেশে কয়েক বছর যাবৎ বিশৃঙ্খলা করে আসছে। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এর মধ্য দিয়ে তারা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। কিন্তু এটা আর কত? এভাবে শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুসায়ীদের নিয়ে অন্য ধর্মের লোকজনের কাছে, ভিন্ন মেসেজ যাচ্ছে। সর্বাধুনিক ধর্ম ইসলামের অনুসারীদের কাছে যা মোটেও কাম্য নয়, হতে পারে না।

মহানবী গাছের নিচে থাকা ব্যক্তিকে ইফতার করতে বলেছেন আর গাছের উপরে থাকা যে ব্যক্তি সূর্য দেখছিলেন তাকে ইফতার করতে নিশেষ করেছেন। তাকে বলেছেন, সূর্য অস্ত গেলে ওই লোক যেন ইফতার করে। হিসাব খুবই সোজা। গাছের নিচের আর উপরের রোজদারের ইফতারে মহানবী যে সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন, সেটাই আমাদের জন্য অনুকরণ ও অনুসরণীয়।

আমাদের দেশে সূর্য অস্তের সময়ের পার্থক্য প্রায় আধা ঘণ্টা। দেশ খুবই ছোট। অথচ সৌদি আরবের সঙ্গে ৩ ঘণ্টা। এ তিন ঘণ্টা কম নয়। আমরা তো সৌদি আরবের লোকজন যখন ফজর-মাগরিবের নামাজ পড়ে তখন আমরা কি ওই নির্দিষ্ট সময়ে ওই দুই বা কোনো ওয়াক্তের নামাজ পড়তে পারি? রোজার সেহরি আর ইফতারের কি আমরা তিন ঘন্টা আগে-পরে করতে পারি? আর কি সেটা সঠিক হবে? এটা অতি সাধারণ কথা।

যে পণ্ডিতরা রোজা ও ইফতার নিয়ে দেশে প্রকাশ্যে নৈরাজ্য ও শৃঙ্খলা-বিরোধী কাজে যুক্ত, তাদের বশে আনা জরুরি। আশার কথা, আমাদের দেশে পার্শ্ববর্তী দেশের মতো দাঙ্গা নেই। কিন্তু এরকমটা অব্যাহতভাবে চলতে থাকলে এক সময় মানুষ ফুঁসিয়ে উঠাআ স্বাভাবিক। তখন দাবিয়ে রাখা কঠিন হবে বৈকি। ধর্মীয় অনুর্ভূতি নিয়ে কেউ যেন দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগে আর না পায়, সে জন্য আগাম সতর্ক থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।

বিষয়টির যৌক্তিক সুরাহা নিশ্চিতে উপমহাদেশের আলিম সমাজ অনেক আগেই সমাধান দিয়ে গেছেন। যে সমাধানের আলোকে আজও ভারত, পাকিস্তান ও আমরা চাঁদ দেখে রোজা পালন করছি আর ভঙ্গ করছি। একইভাবে ঈদ উদযাপন করছি। এর পরও যদি কেউ এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে আর আমাদের মধ্যে বিভক্তির বীজ বপন করে, তাদের শায়েস্তা করা সময়ের দাবি।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। শান্তির সে সৌন্দর্য রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের বিভ্রান্তদের সুপথে আনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই দিনে সারা দেশে রোজা ও ঈদ উদযাপন করার আবহমানকালের ইসলামী সৌন্দর্য চলমান রাখার বৃহৎ স্বার্থে এটা করতে হবে। অন্যথায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ঘোষিত কোনো বিষয় নিয়ে অবজ্ঞাকারীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়ের চেয়ে উত্তম, সেটা মাথায় রেখে দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সময় হেলায় চলে যাচ্ছে।

লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech