যে কারণে ওসমান (রা.) কবরের পাশে কেঁদে জারজার হতেন ... - ইসলাম - Premier News Syndicate Limited (PNS)

যে কারণে ওসমান (রা.) কবরের পাশে কেঁদে জারজার হতেন ...

  

পিএনএস ডেস্ক: এক পথিক জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দূরের কোন গন্তব্যে যাচ্ছিল। হিংস্র জানোয়ারের আক্রমন থেকে বাঁচার জন্য চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে ভয়ে ভয়ে পথ অতিক্রম করছিল। আর কিছুদূর যেতে পারলেই জঙ্গল শেষ। হঠাৎ দেখল দূরে একটি বাঘ তার দিকে তাকিয়ে আছে। দেখামাত্রই কোন রকম চিন্তা ব্যতিরেকে সে বিপরীত দিকে প্রাণপনে দৌড়াতে লাগল। দৌড়াতে দৌড়াতে দেখে সামনে একটা কুয়া। বাঘ ও প্রায় কাছে এসে পড়েছে। বাঘের কবল থেকে বাচার জন্য সে কুয়াতেই ঝাঁপ দিয়ে পড়ল।

কুয়াটি পরিত্যক্ত, ভিতরে গাছ গাছালিতে পূর্ণ, অন্ধকার। ডালপালা ধরে সে কোনমতে পতন ঠেকাল। আস্তে আস্তে চোখে অন্ধকার সয়ে আসল । নীচে তাকিয়ে দেখে বিরাট অজগর হা করে আছে। ভয়ে শিউরে উঠল সে। পালাবার জন্য উপর দিকে তাকাল। দেখল বাঘ কুয়ার উপর থেকে ভিতরের দিকে তাকিয়ে তাকে খুঁজছে।

পথিক নিরাশ হয়ে গেল। আর বাঁচার আশা নেই। উপরে বাঘ নীচে অজগর। ভাবতে ভাবতে সে দেখে যে ডালটাতে ধরে সে দাঁড়িয়ে আছে তা একটি সাদা ইঁদুর কিছুক্ষণ কাটে এরপর একটি কাল ইঁদুর কিছুক্ষণ কাটে। তার হাতের কাছেই একটি মৌচাক। চাক থেকে ফোঁটা ফোঁটা মধু ঝরে পড়ছে। সে ভাবল উপরে নিচে সবখানেই মৃত্যু। মরেই যখন যাব তখন একটু মধু খেয়ে নিই। সে হাতের তালুতে নিয়ে মধু খেতে শুরু করল। খেতে খেতে মধুর স্বাদে সে সবকিছু একেবারে ভুলে গেল।

বিজ্ঞজনেরা বলেছেন- পথিক প্রত্যেক আদম সন্তান, বাঘ হযরত আযরাইল আলাইহিস সাল্লাম, অজগর হচ্ছে কবর, ডালটি হচ্ছে দুনিয়ার হায়াত, সাদা ইঁদুর দিন আর কাল ইঁদুর রাত। অর্থাৎ একেকটি দিন ও রাত পার হচ্ছে আমরা কবরের দিকে যাচ্ছি।

বিজ্ঞ আলেমগণ বলেছেন- হযরত আজরাইল (আ:) প্রতিদিন সত্তরবার করে একেকজন আদম সন্তানকে দেখে যায়। আর কবর প্রতিদিন বলে আমি নির্জনতার ঘর, একাকীত্বের ঘর, সাপ-বিচ্চুর ঘর। আমার কাছে আসার আগে তৈরি হয়ে এসো।

হযরত ওসমান রাদি আল্লাহু আনহু যখন কবরের পাশ দিয়ে যেতেন তখন কান্নায় তার দাঁড়ি মুবারক ভিজে যেত। লোকজন জিজ্ঞেস করলেন- জান্নাত জাহান্নামের বর্ণনায়ও আপনি এত কাঁদেন না যত কবর দেখে কাঁদেন। তিনি উত্তর দিলেন- কবর আখিরাতের প্রথম ঘাঁটি, এ ঘাটিতে যে নাজাত পাবে সে সব ঘাঁটিতেই নাজাত পাবে। আর এখানে যে আটকা পড়বে সে সবখানেই আটকা পড়বে।

প্রিয় পাঠক, হাদিসের সারমর্ম হচ্ছে- বার্দ্ধক্য আসার আগে যৌবনের কদর কর, অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতার কদর কর, ব্যস্ততা আসার আগে অবসরের কদর কর, গরীবি আসার আগে স্বচ্ছলতার কদর কর, মৃত্যু আসার আগে জীবনের কদর কর।

প্রিয় পাঠক, নশ্বর দুনিয়াতো ছাড়তেই হবে। দুনিয়া আমাদেরকে ছাড়ার আগে আমরাই দুনিয়াকে ছেড়ে দিই। অন্ততপক্ষে প্রতি শুক্রবারে একটি করে ভালো কাজ ধরি আর একটি করে মন্দকাজ ছাড়ি। প্রতি রমজানে একটি ভালো কাজ ধরি আর মন্দকাজ ছাড়ি।
নিজস্ব ডায়েরিতে লিখে রাখা হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ-কোনটি ধরলাম আর কোনটি ছাড়লাম।

লেখক : কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স


পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech