বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

  

পিএনএস ডেস্ক: পুলিশি নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন শহরে কারফিউ দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না বিক্ষোভকারীদের। এ অবস্থায় বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প জানান, শহর ও রাজ্যগুলোতে যদি বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী পাঠানো হবে। আর এভাবেই সমস্যার সমাধান করা হবে।

বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘দাঙ্গা, লুটপাট, ভাঙচুর, হামলা এবং সম্পত্তির অযথা ধ্বংস বন্ধে হাজার হাজার ও ভারী সশস্ত্র সৈন্য, সামরিক কর্মী এবং আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের পাঠাচ্ছি।’

ডেরেক চৌভিন নামের যে পুলিশ কর্মকর্তার হাঁটুর চাপে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়েছে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বাকি তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি।

জর্জের পরিবারের আইনজীবী জানান, বাকি তিন পুলিশ কর্মকর্তাকেও গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত ডেরেকের বিরুদ্ধে এবার ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনারও প্রস্তুতি চলেছে।

গত সোমবার (২৫ মে) হাতে হাতকড়া বাধা অবস্থায় জর্জ ফ্লয়েডের উপর অকথ্য অত্যাচার চালায় ওই চার পুলিশ অফিসার। ওই কৃষ্ণাঙ্গ বারবার বাঁচার আকুতি জানালেও তা উপেক্ষা করেন ডেরেক। মাটিতে চেপে ধরা ফ্লয়েডের ঘাড় থেকে তিনি হাঁটু সরাননি। লোকজনের স্মার্টফোনে তোলা মিনিয়াপলিসের পুলিশি অত্যাচারের সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিক্ষোভে। মিনিয়াপলিসে এই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে। কারফিউ দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না সেই বিক্ষোভ।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজের বাইরে প্রবল বিক্ষোভ হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য ভূগর্ভস্থ বাংকারে চলে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রোববার রাতে তিনি আবারও ফের তিনি বাংকারে আশ্রয় নেন।

এদিকে সোমবার প্রকাশিত ময়না তদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, ক্রমাগত হাঁটুর চাপে ঘাড়ে ও পিঠে সংকোচনের কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন জর্জ ফ্লয়েড। নিহতের পরিবার নিজেদের উদ্যোগে এই ময়নাতদন্ত করিয়েছেন। যদিও সরকারি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে এই রিপোর্টের কোনও মিল নেই।

মিনিয়াপলিসের সরকারি ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফ্লয়েড হার্টের সমস্যা ভুগছিলেন। যার কারণে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে মাটিতে চেপে ধরা তিনি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। তবে ফ্লয়েডের পরিবার এই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তার কোনও হার্টের সমস্যা ছিল না এবং তিনি কোনও ওষুধ সেবন করতেন না।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন