চীনের সামরিক বাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

  


পিএনএস ডেস্ক: চীনা সামরিক বাহিনীর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার কাছ থেকে জঙ্গি বিমান ও ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।

রাশিয়ার কাছ থেকে চীন ১০টি সুখোই সু-৩৫ জঙ্গিবিমান ও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে। ২০১৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা রাশিয়ার ওপর যে অবরোধ জারি করে রেখেছে, তাতে চীন যোগ দেয়নি। খবর সিএনএন, আলজাজিরা ও বিবিসির।

ওয়াশিংটন বলছে, মার্কিন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ ও ইউক্রেইনে দখলদারিত্বের প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল, এ অস্ত্র ক্রয় সে নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন।

২০১৪ সালে ইউক্রেইনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের পর থেকে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তি একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিলেও বেইজিং তাতে কখনোই সমর্থন দেয়নি। সে কারণে মস্কোর কাছ থেকে অস্ত্র কেনাও বন্ধ রাখেনি তারা।

রিপাবলিকান প্রার্থীকে জেতাতে ক্রেমলিন ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও হস্তক্ষেপ করেছিল বলে অভিযোগ আছে। এ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস ও বিচার বিভাগের বেশ কয়েকটি তদন্তও চলমান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই দুই বছর আগের নির্বাচনে তার প্রচারণা শিবিরের সঙ্গে মস্কোর আঁতাতের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে মার্কিন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগে তার প্রশাসনও বেশ কয়েকজন রুশ ও রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে চীনা আমদানি পণ্যের ওপরও একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রসোবরনেক্সপোর্টের সঙ্গে ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন’ করায় এবার ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় পড়ল চীনের সামরিক বাহিনীর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (ইডিডি)।

এর ফলে ইডিডি ও এর প্রধান লি শাংফুর যুক্তরাষ্ট্রে যদি কোনো সম্পদ থেকে থাকে, তাহলে সেগুলো জব্দ হবে। মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানও এদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ইডিডির নিবন্ধন বাতিলের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কোথাও থাকার সুযোগ পাবে না।

রুশ সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ৩৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও কাল তালিকাভুক্ত করেছে ওয়াশিংটন।

রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনকে অনুমতি দিয়ে গত বছর যে আইন করেছিল মার্কিন কংগ্রেস তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইডিডির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের নির্বাহী আদেশ জারি করেন।

চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা এলেও মূল লক্ষ্য রাশিয়া, বলছেন ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। রুশ অস্ত্র কেনায় অন্যান্য দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

মস্কোর রাজনীতিবিদরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এ নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না।

“নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এ চুক্তি বাস্তবায়িত হবে বলে নিশ্চিত আমি। এ সামরিক সরঞ্জামাদি চীনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ,” রাশিয়ার পার্লামেন্ট দুমার সদস্য ফ্রাঞ্জ ক্নিনৎসেভিচ ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স।

রাশিয়ার অস্ত্র নির্মাতাদের কাছে এশিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাজার, বলছে বিবিসি। ২০০০ সাল থেকে মস্কোর রপ্তানি করা অস্ত্রের ৭০ শতাংশেরই গন্তব্য এ মহাদেশ।

চীনের পাশাপাশি ভারত ও ভিয়েতনাম রুশ অস্ত্রের অন্যতম শীর্ষ খরিদ্দার বলে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনেও জানিয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের আন্তর্জাতিক বিষয়ক ইনস্টিটিউট চ্যাথাম হাউজ।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech