রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘকে ব্যর্থ বললেন সংস্থাটির উপদেষ্টা

  

পিএনএস ডেস্ক: জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনালের ও সংস্থাটির মহাসচিবের গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা আদামা দিং বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশে তার সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতিসংঘের স্থানীয় কার্যালয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের এই আন্ডার সেক্রেটারি জেনালের আদামা দিং বলেন, বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজার রাখার প্রাথমিক দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ওপর। আর রোহিঙ্গা ইস্যুতে এটি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এ পরিষদটি।

তিনি বলেন, এটি পরিষ্কার যে মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। আর এটির যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তবে গণহত্যার দায় এড়াতে পারবে না মিয়ানমার।

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় অতীতে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতের ব্যর্থতা এড়াতে কী ভূমিকা রাখতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে আদামা দিং বলেন, মনে রাখতে হবে জাতিসংঘ মানে এর সাচিবিক দফতর, এর সাধারণ অধিবেশন, এর নিরাপত্তা পরিষদ এবং এর আদালতসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো নিয়ে। আমি যখন বলেছি যে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। তা দিয়ে আমি এটাই বুঝাতে চাইছি যে এটা আমাদের সবার ব্যর্থতা। আর এ ব্যর্থতার মধ্যে একটি সংস্থাকে প্রাথমিকভাবে এর দায় নিতে হবে। যাদের ওপর দায়িত্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। আর সেটি হলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

তিনি বলেন, এখানে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে। এই দেশগুলো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। আবার সিদ্ধান্তে বাধা দেয়ার জন্য তাদের ভেটোর ক্ষমতাও রয়েছে। আমি মনে করি কোনো দেশের এ ভেটোর অধিকার এমন স্থানে ব্যবহার করা উচিত হবে না, যেখানে মানুষের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হয়।

আদামা দিং প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে জাতিসংঘ এর স্বার্থ রক্ষা ও নিরাপত্তায় ব্যর্থ হয়েছে, যার ফল হিসেবে আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প দেখেছি। এখন এটি জরুরি হয়ে পড়েছে যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আর ব্যর্থ হওয়া যাবে না।

মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘ কি হতাশ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে উপসংহারে আসার আগে আমি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রমাণ খুঁজব না। আমি নিজে মিয়ানমারের ওপর সন্তুষ্ট নই। আমরা মূল কথা হলো সহিংসতা বন্ধ হতে হবে, যা এখনও বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে গত নভেম্বরে চুক্তি হওয়ার পরও সল্পমাত্রায় সহিংসতা চলছে।

রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়টি কেন গণহত্যা হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে আদামা দিং বলেন, আমি শুধু গণহত্যা বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারি। আমি আইনগতভাবে গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে এমনকিছু বলতে পারি না। তবে আমি এটা বলতে পারি মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যা হয়েছে এবং যা হচ্ছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আর বর্তমানে যা সংগঠিত হচ্ছে তার বিরুদ্ধে এখনই ভূমিকা নেয়া দরকার। এর জন্য আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের (আইসিসি) বিচারিক তদন্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা যেতে পারে।

মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়, তাহলে তাকে কীভাবে এর আওতায় নিয়ে আসা যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুদান, লিবিয়াও আইসিসির সদস্য ছিল না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারা আইসিসির আওতায় তাদের নিয়ে আসা হয়েছে। কেউ আটকাতে পারবে না যদি নিরাপত্তা পরিষদ চায়। যদিও বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার ইস্যুতে বিভক্তির সেই পরিস্থিতি নেই। তবে একদিন দেখা যাবে, মিয়ানমারে সংগঠিত অপরাধগুলো নিয়ে একটি বিচারিক আদালত গঠন হতে পারে।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech