যে দুই রোগ থাকলে করোনায় মৃত্যু নিশ্চিত!

  

পিএনএস ডেস্ক: করোনার আতঙ্কে পুরো বিশ্ব। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে বিশ্বের প্রায় ১৫৭টি দেশ ও অঞ্চল। আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৬১০ জন। এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৬১৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৭৭ হাজার ৭৭৬ জন রোগী।

কোভিড -১৯ ভাইরাস অত্যন্ত ছোঁয়াচে, যা হাঁচি, কাশি, লালা ও সর্দির সাহায্যে বাতাসবাহিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তের ৬ ফিটের মধ্যে থাকলে সুস্থ মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে আক্রান্ত মানুষটির হাঁচি, কাশি, নাক ঝাড়া থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি যদি নাকে মুখে হাত দিয়ে সুস্থ মানুষের সংস্পর্শে আসে, তবে অন্যজনের শরীরে এই ভাইরাস দ্রুত বংশ বিস্তার করে।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের করোনায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি। এছাড়া যাদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তারা আছেন সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে।

ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশালিস্ট অরিন্দম কর বলেন, অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় এই রোগে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। যারা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য কোভিড-১৯ মারাত্মক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে রোগীর বয়স যদি ৬৫ বছরের বেশি হয় এবং তিনি যদি ধূমপায়ী হন, তাহলে সংক্রমণ মারাত্মক হয়ে জীবনঝুঁকি হতে পারে।

সম্প্রতি ‘ল্যানসেট’ নামক এক মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে জানা গেছে, ৬৯ উত্তীর্ণ পুরুষ বা নারী যারা ধূমপায়ী এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী, তাদের নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুহার সব থেকে বেশি।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, কোভিড-১৯-এর সংক্রমণে মৃতদের শরীরে ভাইরাস থেকে যায়। আর এ কারণেই চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বিশেষ সতর্কতা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কোভিড-১৯ ভাইরাসটি ফুসফুস ও ক্ষুদ্রান্ত্রকেও অ্যাটাক করে লাইনিং নষ্ট করে দেয়। এরপর একে একে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ করার ক্ষমতাও কমে যায়।

করোনার এখনো কোনো প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে চাপা দিয়ে হাঁচি-কাশি, বাইরে থেকে ফিরে পোশাক বদলে হাত-মুখ সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে নেয়া খুব জরুরি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন