স্টেম সেল থেরাপিতে শারীরিকভাবে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ!

  



পিএনএস ডেস্ক: সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ নানা জরা অসুখকে মোকাবেলা করে আসছে। প্রাকৃতিক উপায়ে নিরাময় প্রথম চালু হয় নানা ভেষজগুণ সমৃদ্ধ গাছ-গাছালী লতাপাতা দিয়ে।

সময়ের পরিক্রমায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা ব্যর্থ হয়। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে দমে যাওয়ার পাত্র নয় মানুষ।
গবেষণার মাধ্যমে ওষুধ আবিষ্কার করে তারা। যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে একেবারে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হয়। কিন্তু এমন অনেক রোগ রয়েছে যাতে ওষুধও ঠিক মত কাজ করে না। কীভাবে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় তা গবেষণার মাধ্যমে বেরিয়ে আসে Stem Cell, Gene therapy সহ অনেক কিছুই। ধারণা করা হচ্ছে আগামী শতক চলবে এইগুলো দিয়ে।

এদের যেমন অবিশ্বাস্য কার্যকারিতা রয়েছে তেমনি রয়েছে ক্ষতিকর দিকও, অনেকটা দুই ধারী তলোয়ারের মত।তাই এখনও কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারেনি এইগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসায় শুধু সফলতাই আসবে, অপকার হওয়ার আশংকা নেই।
Gene therapy আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এখনও বলতে গেলে অসম্ভব হলেও Stem Cell স্বল্প আঙ্গিকে চালু হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা যেমন চলমান সাথে ব্যবসায়িকভাবেও এর ব্যবহার চলছে।

গবেষণায় যারা সমৃদ্ধ সেসব দেশের তুলনায় আমাদের দেশের মাঝে তফাৎ হল- আমাদের দেশে রোগীর নিজের শরীর থেকে সংগ্রহ করে পুনরায় তা রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এর অর্থ আমাদের দেশে যে সেল ইউজ করা হয় তা প্রাপ্ত বয়স্ক সেল, যার আসলে আদি সেলের/ কোষের মত গুণাবলী সমৃদ্ধ নয়।

আমাদের দেশে Stem Cell চিকিৎসায় সফলতা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি অন্যতম অন্তরায়। উন্নত দেশগুলো রোগীর শরীরের থেকে সেল সংগ্রহ করে ঠিকই তবে তা পরীক্ষাগারে পরিমার্জন করে সংখ্যা ও গুণে সমৃদ্ধ করে ব্যবহার করে। এর ফলে অনেক রোগের ক্ষেত্রে তারা সফল হচ্ছে এবং চিকিৎসার নতুন দ্বার উন্মোচন হচ্ছে।

আমাদের দেশে এই কার্যক্রমের আরেকটি জিনিষ উল্লেখ করার মত যে, Stem Cell দিয়েই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তার কোনও প্রমাণ রাখা হয় না।
প্রতিটি জিনিষের একটি পরিচয় রয়েছে, রয়েছে প্রমান। একজন ব্যক্তি যদি চিকিৎসক হয়ে থাকেন তবে তার একটি সার্টিফিকেট থাকবে যা সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্বীকৃত। প্রতিটি সেলের তেমনি চিনবার পদ্ধতি রয়েছে। স্টেম সেলের ক্ষেত্রে তা হলো Flowcytometer দিয়ে মার্কার চিহ্নিত করা। আমাদের দেশে যে এটি সম্ভব নয় তা নয়, অনেক সুলভ মুল্যেই তা সম্ভব।

এই মার্কার করা ছাড়া, দেখানো ছাড়া কেউ দাবি করতে পারবেন না তিনি স্টেম সেলই দিয়েছেন, আর প্রমাণ ব্যতিরেকে কাজের মূল্য আসলে কম।

Stem Cell দিয়ে চিকিৎসার অন্যতম একটি শর্ত হল- কথা থেকে নেওয়া হচ্ছে এটি, কিভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে, কোন রোগে এটি দেওয়া হচ্ছে এবং কিভাবে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পয়েন্টই গুরত্বপূর্ণ সফলতার জন্য।

যেকোনো স্থান থেকে সংগৃহীত সেল সব জায়গায় কাজে লাগবে না, সেল সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী রয়েছে যা International Society of Cellular Therapy কর্তৃক প্রকাশিত যার ব্যতিরেক গুণগত মানসম্পন্ন সেল সংগ্রহ সম্ভব নয়। কোন রোগে এটি দেওয়া হবে তা সর্বপ্রথম বিবেচনার যোগ্য কারন মানব দেহের সব সেল জীবদ্দশায় যেকোনো পর্যায়ে নতুন করে তৈরি হওয়া সম্ভব নয়।

অনেক সেল রয়েছে যা জন্মের পর আর সংখ্যায় বাড়ে না, কাজেই স্টেম সেল দিয়ে সেসব চিকিৎসা করতে গেলে তা ভোগান্তির কারণ হওয়ার আশংকা প্রকট।

স্টেম সেল কিভাবে দেওয়া হবে তারও গুরুত্ব রয়েছে কারণ সেল নিয়ে যদি তা রোগ অনুযায়ী দেওয়া না হয় তাহলে তা কাজে আসবে না।

স্টেম সেল থেরাপির অপার ভবিষ্যৎ রয়েছে আমাদের দেশে, তবে এর ব্যবহারে সচেতনা খুব বেশি জরুরি। শুধু অর্থের তাগিদে এর যতেচ্ছারে ব্যবহার শুধু আর্থিক ক্ষতিরই কারণ নয়, শারীরিকভাবে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।

বিবেকবান চিকিৎসকদের অগ্রণী ভূমিকা খুবই গুরত্বপূর্ণ এর ভবিষ্যতকে সংরক্ষণ করার তাগিদে। রোগীদের যেমন সচেতন হতে হবে তেমনি প্রয়োজন চিকিৎসকদের সঠিক পন্থায় অগ্রসর হওয়ার মানসিক সংকল্প।
লেখক: ডা. আশরাফুল হক, মেডিকেল অফিসার, এমআইএস, ডিজিএইচএ

পিএনএস/ হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech