সাতমাস পর হল খুললেও হতাশ মালিকরা

  

পিএনএস ডেস্ক : প্রায় সাত মাস পর শুক্রবার খুললো সিনেমা হল। অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্তে আজ ১৬ অক্টোবর থেকে হলগুলোতে সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন বন্ধের পর সিনেমা হল খুললেও সিনেমা মুক্তি দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন দেশের বড় বাজেটের সিনেমার অনেক প্রযোজক। তাই নিম্ম মানের ছবি ‘সাহসী হিরো আলম’ দিয়েই সাতমাস পর সিনেমা হলের পর্দায় রঙিন আলো জ্বলে উঠলো। মুকুল নেত্রবাদী পরিচালিত ছবিটিতে নায়ক হিরো আলম নিজেই। প্রযোজকও তিনি। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে দেশের ৩৯টি হলে।

এদিকে শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে রাজধানীর হলগুলোতে আশানুরূপ দর্শক দেখা যায়নি। তবে দেখা গেলো, রাজধানীর বলাকা, মধুমিতা, জোনাকি, এশিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী হলগুলোয় বন্ধের নোটিশ। সিনেমা হল খোলার অনুমতি মিললেও এই হলগুলো খোলার পক্ষে নন মালিকরা। তাই আপাতত হল না খোলার সিদ্ধান্তেই অনড় তারা। মালিকরা জানালেন, এই পরিস্থিতে হল খোলা সমীচীন মনে করছেন না তারা। ভালো মানের সিনেমা না আসা পর্যন্ত হল বন্ধই রাখা হবে।

অপরদিকে রাজধানী ফার্মগেটের ছ্বন্দ, আনন্দ, ইংলিশ রোডের চিত্রমহল, ডেমরার রানীমহল খুলে দেয়া হয়েছে। হলগুলোতে চলছে ‘সাহসী হিরো আলম’। এসব হলে দর্শকদের মাস্ক পরে সিনেমা হলে প্রবেশ নিশ্চিত করছে কর্তৃপক্ষ। দর্শকরা মাস্ক পরে না আসলে টিকেটের সঙ্গে মাস্ক ফ্রি দিচ্ছেন তারা। ফার্মগেটের আনন্দ, ছ্বন্দ হলের টিকেট কাউন্টারের সামনে তার প্রমাণও পাওয়া গেলো। স্থানীয় রিকশাচালক আফজাল হিরো আলমের ছবি দেখতে এসেছেন। সর্বশেষ তিনি এই হলেই শাকিব খানের পাসওয়ার্ড দেখেছেন বলে জানান। মাস্ক না পরে টিকেট কাটতে গেলে তাকে মাস্ক ফ্রি দেন হলের পক্ষ থেকে। দীর্ঘদিন পর হল খোলায় এই হলের কর্মচারীদের মধ্যেও দেখা যায় উৎসবের আমেজ।

হলটির বর্তমান ম্যানেজার আলাউদ্দিন বলেন, ‘সাতমাস বেকার ছিলাম আমরা। এই হলের প্রায় ৩০ জনের মতো কর্মচারী সবাই বেকার ছিলো। কোন বেতন ভাতা পাইনি। হল বন্ধ, কীভাবে বেতন পাবো? অবশেষে হল খুলেছে। তাই আমরা সবাই আনন্দিত। প্রয়োজনীয় সাস্থবিধি মেনেই আমরা হল খুলেছি। চেয়ারগুলো স্যানিজাইজ করছি, দর্শকদের মাস্ক নিশ্চিত করছি। দর্শকদের অনেকেই হল যে খুলেছে. সেটা জানে না। তাই দর্শকও একটু কম। তবে ধীরে ধীরে দর্শক বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।’

ভালো মানের কোন ছবি মুক্তি না পাওয়াতে পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে অবস্থিত চিত্রমহলেও চলছে ‘সাহসী হিরো আলম’। সরেজমেনি গিয়ে এই হলের ম্যানেজারকে পাওয়া গেলো না। পাওয়া গেলো গেটম্যান মো. আসলমাকে। তিনি জানালেন, সাত মাস বন্ধ থাকলেও হলটির মালিক পরিবার নিয়ে চলার মতো অর্থ দিয়েছেন সকল কর্মচারীদের। শুক্রবার হল খোলায় তারা যেনো নতুন করে প্রাণ পেয়েছেন। মর্নিং শো’তে দর্শকদের উপস্থিতি আশানুরুপ না থাকলেও দুপুরের শো’তে ভালোই দর্শক হয়েছে। হিরো আলম হলটিতে প্রদর্শন করবে বলে দর্শকদের উপস্থিতি বেশিই বলেই জানালেন আসলাম।

পিএনএস/এসআইআর


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন