পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে ভয়াবহ তথ্য ফাঁস করলেন মিয়া খলিফা!

  

পিএনএস ডেস্ক:একজন লেবানিয়-মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন অভিনেত্রী। তিনি ২০১৪ সালে পর্নোগ্রাফি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং ডিসেম্বরে জনপ্রিয় পর্নসাইট পর্নহাবে ১ নম্বরে অবস্থান নেন। প্রায় তিনমাস পরই তিনি পর্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিদায় নেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি পর্নোগ্রাফি সম্পর্কে কিছু ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরেন।

মিয়া খলিফা অভিযোগ করেন, যখন একজন যুবতী বিপন্ন অবস্থায় পড়েন, বিপদে পড়েন, তখন তার সঙ্গে চুক্তি করে পর্নো করপোরেশনগুলো। এসব চুক্তি বৈধভাবে করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ফাঁদে ফেলা হয় ওইসব যুবতীকে।

নিজের অতিত সম্পর্কে বলতে গিয়ে মিয়া খলিফা বলেন, এখনও পর্নো দুনিয়ায় কাটিয়ে আসা অতীতকে নিজে মেনে নিতে পারেন নি। তিনি বলেন, ওইসব বিষয়ে আমি যদি থাকি, তাহলে তা এই আমি নই।

পর্নো দুনিয়ায় পারিশ্রমিক খুব বেশি না উল্লেখ করে মিয়া খলিফা বলেন, মানুষ ভাবে আমি এসব ছবিতে অভিনয় করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছি। কিন্তু তাদের এ ধারণা ভুল। অভিনয়ের ক্যারিয়ারে উপার্জন করেছি মাত্র ১২০০০ ডলার। এর পরে ওই খাত থেকে আর একটি পয়সাও পাই নি কখনো।

এখনও মিয়া খলিফার নামে একটি সচল ওয়েবসাইট আছে। কিন্তু এর মালিকানা বা এর লভ্যাংশ মিয়া খলিফার নয়। মিয়া খলিফা বলেছেন, গত বছর আমি চেয়েছি ওই সাইটটির নাম সরাসরি আমার নামানুসারে না রেখে তা পরিবর্তন করানোর অনুরোধ করেছি।

মিয়া খলিফা পর্নো দুনিয়া ছেড়ে দিয়ে এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তাকে কঠিন সময় পাড় করতে হচ্ছে। এখন তিনি স্পোর্টস বিষয়ক ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করছেন।

মিয়া খলিফা বলেন, আমার অতীত জীবনের জন্য অনেক কোম্পানি আমাকে কাজ দিতে চায় না। এতে আমি ভেঙে পড়ি। কিন্তু আমি মনে করি, আমি কখনো আমার প্রেমিকের মতো একজন মানুষ খুঁজে পাব না। উল্লেখ্য, এ বছরের শুরুর দিকে রবার্ট স্যান্ডবার্গের সঙ্গে এনগেজমেন্ট সম্পন্ন করেছেন মিয়া খলিফা। প্রেমিক সম্পর্কে তিনি বলেছেন, আমি যাই করি, তাতেই প্রশংসা করে আমার প্রেমিক।

মিয়া খলিফার পর্নো ক্যারিয়ার খুব স্বল্প সময়ের। কিন্তু বিতর্ক দীর্ঘদিনের। কারণ, পর্নো জগতে তার সবচেয়ে বিখ্যাত বা কুখ্যাত একটি দৃশ্য আছে। সেখানে তাকে হিজাব পরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা অবস্থায় দেখা যায়। এই দৃশ্যটি নিয়ে ভীষণ বিতর্ক হয়েছে। কারণ, হিজাব হলো মুসলিম নারীর পোশাক। আর ইসলামে পতিতাবৃত্তি বা পর্নোছবিতে অভিনয় কড়াকড়িভাবে নিষিদ্ধ। সেই পোশাক পরে পর্নো ছবি করার কারণে উত্তেজনাও দেখা গিয়েছিল।

এ সম্পর্কে মিয়া খলিফা বলেন, ওই ছবিটি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে যেন দাবানলের মতো আগুন ছড়িয়ে পড়লো। আইসিস আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তারা আমার এপার্টমেন্টের গুগল ম্যাপের ছবি পাঠিয়েছিল। ফলে এর পরে আমার ভিতর ভীষণ ভয় দেখা দেয়। আমি পরের দু’সপ্তাহ হোটেলে গিয়ে অবস্থান করি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে মিয়া খলিফার অনুসারী প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ। তবে তার মধ্য থেকে মাঝে মাঝে তিনি আক্রমণাত্মক বার্তা পান। তার ভাষায়, এসব ছোটখাট বিষয়ে আমি তেমন মাথা ঘামাই না। মনে করি মানুষ আমাকে এমনটা বলছে, এতে আমার কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech