করোনা আতঙ্কে চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়ছেন হাজারো শিক্ষার্থী

  

পিএনএস ডেস্ক : করোনাভাইরাস আতঙ্কে রোববার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যায়নি। পাশাপাশি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা ও বর্জন করেছে।
শনিবার বিকেলে নতুন করে দুইজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর শোনার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে চলে যেতে থাকে। এবং রোববার বিকেল পর্যন্ত প্রায় একহাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। এছাড়া আজ বেলা সাড়ে বারোটার সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর আবেদন জানায়।

রোববার পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ক্লাসরুম, ক্যান্টিন, লাইব্রেরিগুলো ছিল শিক্ষার্থী শূন্য। দুই একজন শিক্ষার্থীকে দেখা গেলেও তারা সবাই নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন৷

এমনই এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে। নাম প্রকাশ না করা স্বার্থে তিনি বলেন, ১৫০টি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ দেশেই প্রথম রোগী পাওয়ার পরের এক সপ্তাহের মধ্যেই এই রোগ খুব দ্রুত ছড়িয়েছে। তাই আমরা নিজেদের সুস্থ রাখতে এবং আমাদের মাধ্যমে যেন অন্যান্য মানুষের মধ্যে না ছড়িয়ে যায় সেজন্য বাসায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এছাড়া এদিন দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার হলগুলো ঘুরে কোনো শিক্ষার্থীর দেখা মেলেনি। তবে বিভাগগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

পূর্বের সময়সূচি অনুযায়ী তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষা হওয়ার কথা ২২ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন পরিস্থিতি উন্নত হলে পরীক্ষাগুলো পুনরায় সময়সূচি দেয়া হোক।

এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধি তকী তাজওয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপদ অনুভব করছি না। তাই আমরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিস্থিতি উন্নত হলে আমরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসবো। তখন নতুন ভাবে সময়সূচি প্রকাশ করে পরীক্ষাগুলো নেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মশিউল হক বলেন, এই করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের জন্যই চিন্তার বিষয়। ভার্সিটি বন্ধ থাকবে নাকি খোলা থাকবে সে সিদ্ধান্ত আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিবো।

শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এরআগেও বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাস ছেড়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে আসলে আমাদের কিছু বলার নেই।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন