চাটুকার পরিবেষ্টিত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে লজ্জাজনক অবস্থানে

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : শিশুকাল থেকে শুনে আসছি শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার বিকল্প নেই। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষার শেষ নেই। মহানবী বলেছেন, শিক্ষার জন্য সুদূর চীন যেতে। এগুলো শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মুখে শোনা যায়। আমাদের দেশে হালে সে শিক্ষা তলানীতে যাচ্ছে। সৃজনশীল, যোগ্য, দক্ষ ও প্রগতিশীলদের বদলে মেধাহীন ও চাটুকারদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যোগ্য নাগরিক সৃষ্টির অন্তরায় হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাচ্ছে বরৈ মনে করছেন পণ্ডিতজনরা!

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে কী হচ্ছে বলা মুলকিল। মানুষ যত শিক্ষিত হচ্ছে ততই যেন মরুদণ্ডহীন হচ্ছে। হয়ে পড়ছে বিবেক ও মনুষত্বহীন। হচ্ছে দুর্নীতিবাজ ও চাটুকার। মেধার যোগ্যতার সদাচার তাদের কাছে অনেকটাই অনুপস্থিত। শিক্ষিত লোকজনের এমন আচরণ সচেতন জনগোস্ঠীকে ভাবিয়ে তুলে।কথিত শিক্ষিতদের ঘুষ, দুর্নীতি, মিথ্যাচার ও অনাচার দেখে মানুষের কষ্ট বাড়ছে।

আমাদের দেশে ইতমধ্যে অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। সংখ্যা শতাধিক। রসিকজনরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ টানবাজা্র টিকে থাকলে নাকি কেউ তদবীর করলে সেটাও পেযে যেত! যাচ্ছেতাইভাবে যত্রতত্র বিশ্ববিদ্যায় চোখে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যায় যত বাড়ছে, শিক্ষার মান নাকি ততই কমছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় এগুলোর কর্ণধার নিয়োগ পাওয়ায় শিক্ষার বদলে সেখানের দায়িত্বশীলরা অন্য কাজে বেশি ব্যস্ত থাকায় শিক্ষার মান তলানীতে গিয়ে ঠেকছে।

সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন পরিচালিত র্যা ঙ্কিং ব্যবস্থা এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক র্যা ঙ্কিংয়ে হাজারের মধ্যেও নাকি নেই! কেন হাজারের মধ্যেও নেই, সেটি আজ জাতির কাছে বড় প্রশ্ন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কজন ভিসি আছেন, যারা দলীয় পদেও বহাল। টিভি টক শোয় তাদের বক্তব্য শুনলে রাজনীতিকরা লজ্জা পান বৈকি। অনেকে এদের ভাঁড় বলছেন।পণ্ডিতজনদের মতে, যুগোপযোগী শিক্ষা, মেধা ও মানসম্পন্ন শিক্ষিত জাতি গঠনে দায়িত্বশীলদের অধিক মনোযোগী হতে হবে। বেরিয়ে আসতে হবে কথিত চাটুকার শিক্ষক নামের নরাধমদের বৃত্ত থেকে।

রাজনীতি নয়, কেবল শিক্ষা ও শিক্ষাবিষয়ক গবেষণায় যারা নিয়োজিত, তাদের হাতে শিক্ষা ব্যবস্থা ছেড়ে দেওয়া জরুরি। মেধার বিকাশে এর বিকল্প নেই। অন্যথায় শিক্ষার মান আরো তলানীতে চলে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এটা একটা বড় ধরনেরর ম্যাসেজ যে, এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও নেই।

এ ঘটনা জানার লজ্জা, ঘৃণা ও ক্ষোভে পণ্ডিতজনরা তাদের মাথার চুল ছিঁড়ছেন। তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানটির এবং দেশের শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যে ঠাঁই করে নিতে না পারার বেদনা তাদের পীড়া দিচ্ছে বৈকি। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মেধাহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এতে বেধাবী, যোগ্য ও দক্ষ জনশক্তি হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে।

আধুনিকতার এ যগে বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে জ্যামেতিক হারে, তখন আমাদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর করুণ চিত্র জাতি হিসেবে আমাদের হতাশ না করে পারে না। লন্ডনভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন পরিচালিত র্যা ঙ্কিং আমাদের হতাশাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে শিক্ষাঙ্গনে মাদকের বিস্তার, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন-হয়রানি ও শিক্ষক লাঞ্ছিতের দিকটি থাকলে আমরা র্যা ঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকতাম বেকি।

আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা ও নৈতিকতায় যে ধস নেমেছে, এ আলোচনায় এতক্ষণ আমরা সেটাই শুনলাম ও জানলাম। এস্ব জেনে আমাদের মধ্যে এ শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে যে, শিক্ষার এই অবস্থা খুবই হতাশাজনক। এ চিত্র আমাদের অবাক করছে। এই নৈরাশ্যকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে এ মুহূর্তে যা দরকার, সেটা হলো মেধাবী ও সুশিক্ষিত জাতি গঠনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech