অবশেষে কমেছে পেঁয়াজের ঝাঁঝ

  

পিএনএস ডেস্ক: নিষেধাজ্ঞার আগে রপ্তানির অনুমতিপ্রাপ্ত ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ ছাড়ের অনুমতি দিয়েছে ভারত এমন খবরে পাইকারি বাজারে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমায় খুচরা বাজারেও কমতে শুরু করেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে। যা গত তিনদিন ছিল ৯০ থেকে ১১০ টাকা। অপরদিকে আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, যা গতকাল ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

এদিকে রাজধানীতে পেঁয়াজের সব থেকে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সব থেকে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকায়, যা গতকাল ছিল ৭৭ টাকা এবং তিনদিন আগে ছিল ৮৫ টাকা। অপরদিকে আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজ মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে, যা আগে ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে শ্যামবাজারের বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মো. কাজল বলেন, আজ কেজিতে দেশি পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা কমেছে। আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজের দাম কমেছে ১০ টাকা। এখন দেশি ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকায়। আর ছোট আকারের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। অপরদিকে ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়, যা গতকাল ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগে রফতানির অনুমতি পাওয়া পেঁয়াজ ভারত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু হলে দাম আরও কমবে। আমরা আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম আগের স্থানে ফিরে যাবে। পেঁয়াজের দাম কমে যাক এটা আমরাও চাচ্ছি। কারণ দাম বাড়ার কারণে আমাদের বিক্রি নেই। ঘর বোঝায় মাল নিয়ে বসে থাকি, ক্রেতাই আসে না।

এদিকে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে মালিবাগ হাজীপাড়া বৌবাজারের ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে, এ কারণে আমরা কম দামে বিক্রি করছি। গতকাল ৯০ টাকা কেজি বিক্রি করা দেশি পেঁয়াজ আজ ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। ৮০ টাকার ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ টাকায় বিক্রি করছি।

বাড্ডায় কেজি ৯০ টাকা করে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করা মমিনুল ইসলাম বলেন, পাইকারিতে দাম কমায় আমরাও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছি। গতকাল ১১০ টাকা কেজিতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। আজ ৯০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ আমাদের আগের কেনা।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সংবাদ বেরিয়েছে ভারত পেঁয়াজ দেবে। শ্যামবাজারেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভারতের পেঁয়াজ পাওয়ার সংবাদ শুনেছি। ভারতের পেঁয়াজ আসা শুরু হলে দাম আরও কমে যাবে। এ কারণে ভারতের পেঁয়াজ আনিনি। আগে আনা ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেনা দামে বিক্রি করে দিচ্ছি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হুট করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এতেই দেশি পেঁয়াজের দাম খুচরা বাজারে বেড়ে ১১০ টাকা হয়ে যায়। আর পাইকারিতে হয় ৮৫ টাকা। এমন দাম বাড়ায় আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি পেঁয়াজ কেনার হিড়িক পড়ে ক্রেতাদের মাঝে।

এরপর বৃহস্পতিবার থেকে ক্রেতা সংকট দেখা দেয় পেঁয়াজের বাজারে। যার প্রভাবে পাইকারি বাজারে কমতে থাকে পেঁয়াজের দাম। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দু’দফায় দাম কমে পাইকারিতে পেঁয়াজের কেজি ৭৭ টাকায় নামে। তবে এ পরিস্থিতিতে সংবাদ আসে- নিষেধাজ্ঞার আগে রফতানির অনুমতি পাওয়া ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশকে দেয়ার অনুমতি দিয়েছে ভারত।

এতেই দেশি ও আমদানি করা উভয় ধরনের পেঁয়াজের দাম আরো কমে গেল।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন