দাতারাই ভরসা, করোনা-পরবর্তী বাজেট

  


পিএনএস ডেস্ক: করোনা-পরবর্তী বাজেট অর্থায়নে দাতাদের ওপর বেশি মাত্রায় ভরসা রাখতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগ ব্যাংকের কাছ থেকে বাজেটসহায়তা হিসেবে ৩২০ কোটি ডলার চেয়েছেন। বাংলাদেশী টাকার মানে যা প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। সরকার আশা করছে, এই পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেলে আগামী অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়ন করতে বেশ সুবিধা হবে। কারণ করোনা পরিস্থিতির কারণে আগামী অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আয়ে পুরোপুরি স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে তার একটি চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। গত মার্চ মাসেই রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক বা ঋণাত্মক হয়ে গেছে। এই প্রবণতা আগামীতে আরো বাড়বে বলে শঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নে বিদেশী সহায়তার দিকে এবার বেশি জোর দিতে হচ্ছে সরকারকে।

এর মধ্যে গত ১০ দিনে বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে চলতি ও আগামী অর্থবছরের বাজেটে বাড়তি আর্থিকসহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর মধ্যে এআইআইবির (চীনভিত্তিক বিনিয়োগ উন্নয়ন ব্যাংক) কাছে বাজেটসহায়তা খাতে চলতি অর্থবছরে আরো ৫০ কোটি ডলার এবং আগামী দুই অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার ও করোনা মোকাবেলায় ১০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক- এডিবির কাছে চাওয়া হয়েছে ১০০ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ৭০ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাংকের কাছে চলমান সহায়তার বাইরে ৫০ কোটি ডলার এবং ‘ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’-এর (আইএসডিবি) কাছে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১৫ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে অর্থায়ন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর আগে আর কোনো অর্থবছরে অর্থসঙ্কট এতটা প্রকট হয়নি। করোনার অভিঘাত মোকাবেলায় ইতোমধ্যে বড় ধরনের একটি ব্যয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাত দেয়া হয়েছে। এ জন্য এখন আমাদের বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অন্য দিকে রাজস্ব আদায়ের ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়েছে। লক্ষ্যমাত্রা তো দূরের কথা, রাজস্ব আয় এখন নেতিবাচক হয়ে গেছে। আগামী অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে এই পরিস্থিতির কোনো উন্নতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার আগামী অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণচাহিদা বেড়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায় সার্বিক দিক বিবেচনায় দাতাদের কাছ থেকে বাজেটসহায়তার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া সরকারের কাছে অন্য কোনো বিকল্প পথও নেই।

এ দিকে, আগামী অর্থবছরের জন্য পৌনে ছয় লাখ কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। জিডিপির অংশ হিসেবে ঘাটতি ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। এই বিশাল ঘাটতি রাজস্ব আয় দ্বারা পূরণ করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। গত মার্চে মাসে এ খাতে নেতিবাচক বা ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাইনাস ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ অবস্থা চলতে থাকলে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আয়ের ঘাটতি থাকবে এক লাখ কোটি টাকার মতো। মূলত উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং করোনাভাইরাসজনিত কারণে রাজস্ব আদায়ের এই হাল বলে মনে করছে এনবিআর।

উল্লেখ্য, শুধু বাজেটসহায়তা হিসেবেই নয়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সহায়তা কামনা করেছে। চলতি অর্থবছরে করোনায় স্বাস্থ্যজনিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংক ১০ কোটি ডলার, ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ (এডিবি) বাজেট সহায়তাসহ অন্যান্য খাতে ৬০ কোটি ২৩ লাখ ডলার এবং ‘এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক’ (এআইআইবি) ৪৫ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট ক্রেডিটের আওতায় বিশ^ব্যাংকের কাছে প্রাপ্য ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ২৫ কোটি ডলার দ্রুত ছাড়ের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। সূত্র: নয়া দিগন্ত

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন