পেঁয়াজ বিদেশে পাঠানোর আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

  

পিএনএস ডেস্ক : পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আবারও সংসদে এমপিদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা এই বিপদকে সম্পদে পরিণত করব। আপনারা একটু অপেক্ষা করেন আগামী তিন বছর পর আমরা পেঁয়াজ রপ্তানি করব।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কোম্পানি (সংশোধন) বিল-২০২০ পাসের আগে আনা জনমত যাচাই-বাছাই ও সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে সংসদ সদস্যরা বিষয়টি উত্থাপন করেন।

এ সময় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘দেশের মানুষ তো খুব সমস্যায় আছে। আপনি মন্ত্রী হওয়ার পর ২০০ টাকা কেজি হলো পেঁয়াজের মূল্য। এটাকে কমাতে পারেন না আপনি আইন পরির্তন করার জন্য আসছেন। দেশের মানুষ চিন্তায় আছে। সামনে রোজা, রোজার মধ্যে মানুষ তো পেঁয়াজু আর খাবে না। এটা জনগণের খাওয়া সম্ভব না। আগামী রোজার মধ্যে পেঁয়াজ, লবণ, তেল নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি হবে না এই গ্যারান্টি দিতে পারবেন?’

একই দলের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘তিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমাদের পেঁয়াজ এখন গিফট আইটেমে পরিণত হয়েছে। এই গিফট আইটেম থেকে পেঁয়াজকে সবজিতে আবার নিয়ে যাবেন কি না? মানুষ বিয়েতে যায় অন্য কোনো গিফট নিয়ে যায় না পেঁয়াজ নিয়ে যায়। এটি থেকে কিভাবে মানুষকে রক্ষা করবেন?’

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব পছন্দ করি। উনি চমৎকার কথা বলেছেন। টাকা পাচার নিয়ে উনি (বাণিজ্যমন্ত্রী) একটা কথা বলেছেন, মুশকিল হলো যতক্ষণ অপরের দিকে তাকিয়ে থাকব, ততক্ষণ পর্যন্ত আয়নায় নিজের মুখ দেখব না, এটাই স্বাভাবিক। বাণিজ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব উনি যদি একটু আয়নার দিকে তাকান এবং গ্লোবাল ফাইনান্স ইউকিউটি রিপোর্ট দেখেন তাহলে স্পষ্ট হয়ে যাবে টাকা পাচারের বিষয়টা কি?’

জবাব দিতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমাকে আয়নায় চেহারা দেখতে বলেছেন। আমার যা রং, চেহারাও আমার সুবিধার না। সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। টাকা পাচারের ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত সচেতন।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত নিজেদের উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হই, আমাদের যদি পরের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়, তাহলে তাদের অবস্থানের সাথে আমাদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়। আমাদের দেশে প্রয়োজন প্রায় ২৫ লাখ টন, তার মধ্যে আট থেকে লাখ টন বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। এটা ধারবাহিকভাবে চলে আসছে। ওই আমদানির ৯০ ভাগই ভারত থেকে আনতে হয়েছে। ভারত উদ্বৃত্তের দেশ তারা পেঁয়াজ রপ্তানি করে। কিন্তু তারা গত ২৯ সেপ্টেম্বর রপ্তানি বন্ধ করে দিল। এরপর বিকল্প বাজার থেকে আমাদের আনতে সময় লেগেছে। বিকল্প মার্কেট থেকে পেঁয়াজ আনতে ৪৫-৫০ দিন সময় লেগেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এবার ভারতেই পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫০ রূপিতে উঠেছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগামী তিন বছরের মধ্যে আমরা উদ্বৃত্তের দেশ হব।’

মন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার নিজের এলাকায় প্রত্যেকে একটু প্রোঅ্যাকটিভ হন। একটু পেঁয়াজ লাগাইয়া দেন না কেন? একটা সময় তো নিশ্চয়ই স্বয়ংসম্পর্ণ হতে হবে। এবার চোখ খুলে দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি এই বিপদ সম্পদে রূপান্তরিত করব।’

আগামী রমজান উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘গত তিন মাসে ৩০০ জায়গায় আমরা ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ দিচ্ছি। আগামী রমজান মাস উপলক্ষে ৩০ হাজার টন ভোজ্য তেল, ৩০ হাজার টন চিনি ব্যবস্থা করে রেখেছি। গত রমজানের তুলনায় দশ গুণ শক্তি নিয়ে বাজারে থাকব।’

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন